ছেলে কোটা আন্দোলনে জড়িত তাই বাবার ওপর হামলা, মৃত্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত মইনুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের ছেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকায় বাবার উপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

গত ৯ আগস্ট শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দৌলতপুরের বালিরদিয়ার গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার পর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইসিইউতে তিনি মারা যান তিনি। 

নিহতের ছেলে তামিম আহমেদ জানান, তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি প্রথম থেকেই অংশ নিচ্ছিলেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পর তামিম কুষ্টিয়া কলেজ থেকে বাড়িতে যান। বাড়িতে গিয়েও দৌলতপুরে ৪ আগস্ট শান্তি মিছিল করেন। এসব দেখে তাদের গ্রামের আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তাদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তামিম।

হুমকিতে ভয় পেয়ে বাবা মইনুর রহমান ৯ আগস্ট শুক্রবার তামিমকে জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। সেই কথামতো তিনি বাড়ি থেকে চলে আসেন। 

তামিম আরও জানান, তার বাবা ইজিবাইকে করে বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতেন। ৯ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে টাকা কালেকশনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় নিজ গ্রামে তার পথরোধ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঝড় হতে থাকলে ককটেল বিস্ফোরণ করে এবং ফাঁকা গুলি করে তারা পালিয়ে যায়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওইদিনই উপজেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে রাজশাহী হাসপাতাল, পরবর্তীতে নিয়ে আসা হয় ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তার ডান হাতটি পুরোপুরি কেটে ফেলে দেয়া হয়। অবস্থার অবনত দেখে ১৫ই আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মৃত্যু হয় তাঁর। 

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।