সাবেক এমপি জাহিরের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মোস্তাক আহমেদ নামে এক যুবক গুলিতে নিহত ও কয়েকজনকে আহত হওয়ার ঘটনায় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের নাম উল্লেখ করে  মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতানামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে আন্দোলন চলাকালে  রিপন শীল নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হওয়ায তার মা রুবী শীল বাদি হয়ে সাবেক এমপি আবু জাহিরসহ  ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতে এসএম মামুন মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

হবিগঞ্জ থানার ওসি নূরে আলম জানান, সাবেক এমপি আবু জাহির, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের কর্মী শাহ নেওয়াজ, আবু জাহির এমপির পুত্র ইফাত জামিল, বানিয়াচঙ্গ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মঈন আহমদ চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে মোস্তাককে হত্যা ও ছাত্র জনতাকে আহত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় অন্যান্য আসামিরা হচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২ আগস্ট বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. আবু জাহির ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরীর প্ররোচনা ও উস্কানিতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ লাঠি সোটা ও অগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের গুলিতে  অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় হবিগঞ্জ পিডিবি’র অস্থায়ী লাইনম্যান ও সিলেটের টুকের বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে মোস্তাক আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে মোশাহিদ মিয়া, মজিদ মিয়া, সোহাগ মিয়াসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন।