হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে  হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।  নদীর পানি সবগুলো পয়েন্টেই বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি  পাওয়ায় শহরতলীর জালালাবাদ এলাকার বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে রিচি ও লোকড়া ইউনিয়নের হাওরে রোপা আমন ও মৎস্য খামারিদের ক্ষতি হয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, লস্করপুর এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। কলিমনগর  এলাকায় বাঁধের উপর দিয়ে বন্যার পানি উপচিয়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে। স্থানীয়রা মাটি ও বালুর ব্যাগ ফেলে দিনরাত বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার  বেলা ১২টার দিকে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ২৭৬ সেন্টিমিটার  শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১৫০ এবং শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নামা আসা পাহাড়ি ঢলে সেখানে বন্যা দেখা দেয়। উজানে খোয়াইয়ের  ব্যারেজের ৭টি গেট খুলে দেয়ার ফলে হবিগঞ্জে এর প্রভাব পড়েছে। সেখানে বর্ষণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত  হবিগঞ্জ শহর ও আশপাশ এলাকার বাঁধ ঝুঁকিতে থাকবে।

এদিকে শহরতলীর জালালাবাদ, রিচি, লুকড়া,  গোয়ালনগরসহ বেশ কটি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানির নীচে। অনেকই পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, কুশিয়ারা নদীর পানি আজমিরীগঞ্জ ও মার্কুলি পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।