বাংলাদেশে হচ্ছে না নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাজনিত ভ্রমণ সতর্কতার জন্য বেশ কিছু অংশগ্রহণকারী দেশের আপত্তিতে বিশ্বকাপের ভেন্যু এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভেন্যু বদল হলেও বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনায় খুব একটা বদল আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উইমেন্স উইং-এর হেড অব অপারেশনস হাবিবুল বাশার। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক জানিয়েছেন, উইকেটের সাদৃশ্যের কারণেই পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না, তবে ঘাটতি যেটা হবে সেটা হোম অ্যাডভান্টেজের।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই হওয়ার কথা ছিল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়াতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হতে পারে দুবাই কিংবা শারজায়। হাবিবুল মনে করেন, খুব বেশি পার্থক্য হবে না তাতে, ‘বিশ্বকাপ ধরেই কিন্তু প্রস্তুতি চলছিল। পরিবর্তনের ফলে যেটা হয়েছে যে আমরা হোম অ্যাডভান্টেজটা মিস করব। ইউএই যে খুব ভিন্ন রকম তা বলব না, কন্ডিশন বলতে তো আমরা উইকেটটাই বুঝি; উইকেটটা প্রায় একই রকম, স্পিন সহায়ক। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হতো। ইউএই অনেকটা আমাদের মতোই, তাই খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রস্তুতি যেভাবে নিচ্ছিলাম সেভাবেই এগোচ্ছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতির জন্যই রাজশাহীতে শুরু হয়েছে নারী জাতীয় ক্রিকেট লিগ। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ৮টি বিভাগীয় দল। রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম ও বাংলাট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে হবে ম্যাচগুলো। ৭ রাউন্ডের এই লিগ বিশ্বকাপের আগে মেয়েদের ভালো একটা প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদী হাবিবুল, ‘সামনে এনসিএলটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি, আগে যারা ছিলেন তাদের নিয়েই কাজ করছি। আমি আমার মতো করে পরিকল্পনা করতে পারছি। আমি মাত্র যোগ দিয়েছি এই বিভাগে, আমার প্রথম চিন্তা ছিল ম্যাচের সংখ্যা যেন বাড়াতে পারি। আরও বেশি খেলোয়াড় যেন বেশি করে ম্যাচ খেলতে পারে, প্রস্তুতি নিতে পারে। তারই অংশ হিসেবে, গত বছর এনসিএল হয়নি তাই আমার মূল লক্ষ্য ছিল এই টুর্নামেন্টটা শুরু করার। কারণ ক্রিকেটটা তো শুধু ১৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে নয়। যারা খেলেন তাদের সবাইকে নিয়ে।’
সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বিসিবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। হাবিবুল এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, একটু সময় দিতে হবে তাকে, ‘আমরা একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি। উনি জানেন আমাদের কাজের পরিধি কেমন ও কে কীভাবে কাজ করতে চায়। উনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, যে যার কাজটাই করা উচিত। এটা আমাদের সবার জন্যই স্বস্তির। আমরা কে কোথায় কাজ করতে পারি, এসব তিনি বেশ ভালোভাবেই জানেন। আমাদের কিন্তু উনাকে একটু সময় দেওয়া উচিত। ফারুক ভাই নিশ্চয়ই জাদুর ছড়ি নিয়ে আসেননি যে আসা মাত্রই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা যদি তাকে একটু সময় দিই, একটু সহায়তা করি, তাহলে অনেক কিছুই ঠিক হয়ে যাবে।’