হঠাৎ বন্যায় তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। কোথাও বাড়ির ছাদে, গাছের ডালে আশ্রয় নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর হাহাকার। ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞাসহ প্রায় সব উপজেলায় এখন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সড়ক ডুবে যাওয়ায় সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ায় ঠিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়ে উঠছে না।
ফুলগাজী উপজেলার বেশিরভাগ অঞ্চল ডুবে গেছে। এসব এলাকায় কোথায় বুক সমান পানি কোথাও আবার একতলা ভবন ডুবে গেছে। বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন বাড়ির ছাদে, ঘরের চালে।
ফুলগাজীর সীমান্ত এলাকার পৈথারা, কামাল্লা, গাবতালা, মনতলা, ফকিরের খিল, বদরপুর গ্রামগুলোতে কাঁচা সব বাড়িঘর ডুবে গেছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে মানুষ।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী বিলোনিয়া ও সংলগ্ন এলাকায়। বিলোনিয়া, কালিকাপুর, পরিখিল, ফকিরের খিল, বাউরখুমা, বাউর পাথর, নিজ কালিকাপুর, মির্জানগর, জয়ন্তী নগর, কাউতলি সীমান্তবর্তী এই দুর্গম এলাকাগুলো পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। ফুলগাজীর নোয়াপুর, দক্ষিণ তারা মিয়া, বালুয়া, চানপুর, পশ্চিম বসিকপুর, আনন্দপুর, বাসুরা, কালিকাপুর, বদরপুরে এখনো পানি ৭-৮ ফুট উচ্চতায় রয়ে গেছে।
এদিকে সেনাবাহিনী, বিভিন্ন সংগঠনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকা-স্পিডবোট নিয়ে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে মানুষকে উদ্ধার করছেন তাঁরা। ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা সদরের কাছাকাছি এলাকার কিছু দুর্গতদের উদ্ধার করতে পারলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এরমধ্যে মুহুরী নদীর পানি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আজ এবং আগামীকাল অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।