আড়ালে থেকেও পাশে

মেহজাবীন চৌধুরীকে যারা খুব কাছ থেকে চেনেন তারা বেশ ভালো করেই জানেন যে, তিনি অনেকটা অন্তর্মুখী স্বভাবের। যেকোনো কিছু নিয়ে কিংবা যে কাউকে হুট করেই তিনি কিছু বলতে পারেন না। কিছু করার আগে কিংবা কাউকে কিছু বলার আগে ভীষণ রকমভাবে ভাবেন তিনি। এরপর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরুর দিকে অনেকের মতো প্রতিবাদের স্লোগান নিয়ে হাজির না হলেও মানবিক অবতারে বরাবরই হাজির হয়েছেন তিনি। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি যখন অস্থিতিশীল হতে শুরু করে এবং অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড চলে, তখন উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ তোলেন। এরপর দেশ জুড়ে চলা আতঙ্কে প্রতিবারই সতর্ক বার্তা নিয়ে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সরব ছিলেন বাংলা নাটকের এই রানী।

দেশে চলমান ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যার্থে নিজে যেমন এগিয়ে এসেছেন, তেমনি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সব স্তরের মানুষদের। অনেকটা নীরবেই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তার নেতৃত্বে অভিনেত্রীর দাতব্য সংস্থা ‘হাসি ফাউন্ডেশন’-এর সাতজনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লাতে পৌঁছেছে। সেখানে বন্যার্তদের মধ্যে খাবার, ওরস্যালাইন, পানি, ওষুধ বিতরণ করছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহজাবীন চৌধুরী বন্যার্তদের সাহায্যার্থে শুধু অর্থই অনুদান দেননি, বরং তার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বার্তা দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তবে এই বিষয়টি ঘটা করে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।

তার মতে, এই মুহূর্তে বন্যার্তদের পাশে থাকাটাকে জরুরি মনে করছি, অন্য কিছুকে নয়।

এর আগেও দেশের নানা সংকটে মানবতার প্রতীক রূপে হাজির হয়েছেন মেহজাবীন। বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। এসব বিষয়গুলোতে বরাবরই তাকে পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো একদমই আড়ালে থেকে করতে পছন্দ করেন তিনি।

এদিকে মেহজাবীন অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘সাবা’ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবের ডিসকভারি প্রোগ্রামে বিশ্বের ২৪টি সিনেমার সঙ্গে লড়াই করবে মাকসুদ হোসেন নির্মিত বাংলাদেশি এই সিনেমা।