সড়কে দোকান বসানোর চেষ্টা

জনতার তোপে আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে সড়কে অবৈধ দোকান বসাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের তোপে মুখে পড়েছেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাদানীনগর চৌরাস্তা এলাকায় নাজমুল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করে ওই শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকান বসাতে যায়। পরে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পালিয়ে যায় তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মাদানীনগর চৌরাস্তায় সড়ক দখল করে দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করা হতো। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কে দোকানপাট বসতে দেওয়া হয়নি। আজ (গতকাল) বিকেল ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে নাজমুল ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্র নিয়ে ওই সড়কে আবার দোকানপাট বসাতে চাইলে আমরা বাধা দিই। তখন ওই ছাত্ররা আমাদের সঙ্গে আসদাচরণ করে জোরপূর্বক দোকানপাট বসাতে চায়। এতে উপস্থিত এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সত্যিই সমন্বয়ক কি না, এবং কোন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তা জানতে চাইলে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। তখন এলাকার বহু ছাত্র ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ছাত্রদের ওপর চড়াও হয়।’

আদমজী এমডব্লিউ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান বলেন, ‘সড়কে দোকানপাট বসাতে নিষেধ করায় নাজমুল এলাকার বয়স্ক লোকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তখন আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে আমি ছয়টি ওয়ার্ড চালাই। আমি ছয়টি ওয়ার্ডের নেতা। আমার কথায় কলেজ চলে। আমাকে গালি দিয়ে বলে, “তুই কে। বেশি কথা কইলে সবাই মিলে তরে পিটাইব। তোকে কলেজ থেকে টিসি দিয়ে দেব।” তার এসব কথা শুনে আমার সঙ্গে থাকা সব ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাজমুল তার সঙ্গে থাকা সবাইকে নিয়ে চলে যায়।’