পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণকাজ। তিন কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দের এ সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন এলাকাবাসী। অন্তত ৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশকুড়া বাজার থেকে তেঁতুলতলা সংযোগ সড়কের ৩৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সেতু নির্মাণে টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। শেষ করার কথা ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু দুই বছর নামমাত্র কাজ করে পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর কাজ আংশিক শেষ হয়েছে। পিলারের রডগুলো বের হয়ে আছে। পরবর্তী কাজের জন্য ঠিকাদারের কোনো মালপত্র সেখানে নেই। কাজের কোনো সাইনবোর্ডও নেই। সেতুর পূর্ব পাশ দিয়ে যে বিকল্প সাঁকো করা হয়েছে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণস্থলে কোনো শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া (৬০) জানান, গত দুই বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ খুব দুর্ভোগে আছে। তারা প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। অটোরিকশা-ভ্যানে চলাচলের সময় বিকল্প রাস্তার এক প্রান্তে নেমে অন্য প্রান্তে গিয়ে উঠতে হয়। বৃষ্টির সময় পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
সাইফুল ইসলাম (৩৫) বলেন, বারবার বলার পরেও কোনো লাভ হচ্ছে না। চার বছরের বেশি সময় ধরে সেতু না থাকায় হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভোগান্তি লাঘবে তিনি দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান।
অটোরিকশা চালক ইউসুফ আলী (৪০) বলেন, ‘আমরা চাইলেও দূরে ভাড়া নিয়ে যেতে পারি না। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি।’
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংযোগ সড়কের জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকায় কাজটি শুরু করতে দেরি হয়। ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকটে আছেন। তবে বিল পেলে কাজটি দ্রুত শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।’