প্রায় দুই যুগ ধরে অনেক যত্ন করে গড়ে ছিলাম নিজের স্বপ্নের ঘর। কিন্তু এতদিনের কষ্টে গড়া ঘর নিমিষেই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেল। ভেসে গেছে ঘরে সব কিছু। আশ্রয়হীন হয়ে পড়লাম। এভাবে নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন ফেনীর আকলিমার ফেনীর দাগনভূঞার দুধমুখা ইউনিয়নের গ্রামের আকলিমা খাতুন।
অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে গত কয়েকদিন ধরেই পানির নিচে তলিয়ে আছে ফেনী জেলা। পানিবন্দি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। আকলিমা খাতুন আশ্রয় নিয়েছেনে বোনের বাসায়।
আকলিমা জানায়, স্বামী আব্দর রহমান প্রবাসী। বাড়িতে দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে থাকেন তিনি। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন । সেদিন রাতে বাড়িতে পানি উঠা শুরু করে। ভেবেছিলেন পানি হয়তো কমে যাবে । তাই বাড়িতেই ছিলেন । কিন্তু শুক্রবার টিনের ঘর পানির নিচে চলে যায়। পরে দুই মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে রাস্তায় আসি। বোনের দোতলা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
আকলিমা বলেন, স্বামী দেশে বাইরে থেকে কষ্ট করে খরচ পাঠাতেন । তার কষ্টের টাকায় তিলেতিলে গড়ে ছিলাম সব কিছু। হঠাৎ এই বন্যা এসে সবকিছু ওলটপালট করে দিল। নিজের থাকার আশ্রয়টক হারিয়ে ফেললাম। ঘর থেকে কোনো জিনিসপত্র বের করতে পারিনি।
এসময় আকলিমা আরও বলেন, কতদিন আর বোনের বাসায় থাকবো। আমাকে তো মেয়েদের নিয়ে নতুন আশ্রয়ে যেতে হবে। আবার নতুন করে ঘর তুলবো সেই সামর্থ্য নেই। এখন নিজের বাড়িঘর ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হবে।
সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা কখনো ভুলতে পারবেন না বলে জানান আকলিমা। রাতের কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠেন। রাতে পানি বাড়ার পর ছিল না বিদ্যুৎ। ঘরে থাকা টর্চ লাইট নিয়ে আশ্রয় নেন ঘরের সিলিংয়ে। ফোন কারো সাথে যোগাযোগও করতে পারছিলেন না। সেই সাথে ছিল দুই মেয়ের কান্না। বলেন, আতঙ্কে শুধু আল্লাহকে স্মরণ করেছি। দুই মেয়ের কান্না সহ্য হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, রাতেই জীবনগুলো থেমে যাবে! পরদিন স্বামীর কষ্টার্জিত টাকায় বানানো ঘরটি পানিতে সঁপে দিয়ে মেয়েদের নিয়ে এক কাপড়ে বোনের বাড়িতে এসেছি। আমার দুই মেয়ে খুবই ভয়ে আছে। রাত হলেই তারা কান্না করে। তাদের এই ভীতি দূর করতে হবে।