রাজধানীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশত্যাগকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর, বৈষম্যবাদী, স্বৈরাচার, কর্তৃত্বপরায়ন, নিপীড়ক ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ এনেছেন।
রবিবার মহাখালীতে নিপসমের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী নিপসম জনতা’র ব্যানারে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই অবাঞ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সকাল থেকে বিকেল অবধি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় নিপসমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, এর আগেও ডা. ফ্লোরা নিপসমের পরিচালক ছিলেন। তখন তিনি নানা অনিয়ম ও দলীয়করণ করে প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর।
এমনকি বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নিপসমের সাবেক পরিচালক ডা. শামিউল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ডা. সামিউল হককেও জুলুমবাজ ও আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর বলে মন্তব্য করেন। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নিপসমের পুষ্টি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুবেনা হকেরও পদত্যাগ দাবি করা হয়। তারা নিপসমের ভেতর থেকেই একজন সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে পরিচালক পদে বসানোর দাবি জানান।
এর আগে চিকিৎসকদের দাবির মুখে গত ২২ আগস্ট নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলামকে বদলি করে পরবর্তী পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। সেদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বদলি করে অধ্যাপক ফ্লোরাকে নিপসমের পরিচালক করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখনো তিনি নিপসমের দায়িত্ব বুঝে নেননি।
নিপসমের একজন কর্মকর্তা জানান, বদলি আদেশ হওয়ার পর এখনো নিপসমে আসেননি ডা. ফ্লোরা। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেননি ডা. শামিউল ইসলামও। কাগজপত্র ঠিকঠাক করে রবিবার ডা. ফ্লোরার নিপসমে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে তিনি আসেননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বদলি আদেশ হওয়ার পর গত তিন দিন ধরে ডা. ফ্লোরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অফিস করছেন। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে নিপসমের পরিচালক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বদলি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নিপসম থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে বদলি করা হয়। এই বদলির ৬ মাসের মাথায় আবার তাকে নিপসমে বদলি করে মন্ত্রণালয়।