টেস্ট আঙিনায় দুই যুগের পথচলায় মোট ১৪৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডির ঐতিহাসিক ফলের মধ্য দিয়ে টেস্ট জয়ের ‘কুড়ি’ পূরণ করল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে প্রথমবার এমনকি তাদের মাটিতেই হারানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের হিসাবে এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের কৃতিত্ব। ২০টির মধ্যে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এটি ৭ম জয়।
২০০০ সালের শেষ দিকে টেস্ট যাত্রা করা বাংলাদেশের প্রথম জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৫ বছর। ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি এসেছিল প্রথম টেস্ট জয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছিল ম্যাচসেরা এনামুল হক জুনিয়র ও মোহাম্মদ রফিকের স্পিন ভেল্কি আর তখনকার অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও রাজিন সালেহর উইলোবাজির। ৯৪ ও ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন বাশার। ওই জয়ের পর আবার ঘুরতে শুরু করে অপেক্ষার ঘড়ির কাঁটা। আরও চার বছর বাদে থামে সেই প্রহর। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে আসা বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়টি ছিল বিদেশের মাটিতে প্রথম। অবশ্য প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে হওয়া এ সিরিজ বয়কট করেছিলেন। জোড়াতালি দিয়ে গড়া উইন্ডিজদের সেই দলের বিপক্ষেই সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯৫ রানে। নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ইনজুরিতে নেতৃত্বভার পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। গ্রানাডায় হওয়া পরের ম্যাচেও সাকিব নৈপুণ্যে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটের ম্যাচ জয়ের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জেতার আনন্দ এনে দিয়েছিল।
২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে প্রথম টেস্ট হারলেও দ্বিতীয় টেস্টে ১৪৩ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। হারারেতে সেবার জয়ের নায়ক ছিলেন ম্যাচে ৬ ও সিরিজে ১২ উইকেট শিকার করা পেসার রবিউল ইসলাম। ব্যাটে অবদান রেখেছিলেন মুশফিক, সাকিব, নাসিররা। পরের বছর ঘরের মাঠে মিরপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামে টানা তিন টেস্টে জিম্বাবুয়েকে আবার হারায় বাংলাদেশ। এর পরই বাংলাদেশ পায় ঘরের মাঠে তাদের সবচেয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের মুহূর্ত। ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুরে ১০৮ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ইংল্যান্ডকে। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির পর ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন ওই সিরিজেই অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ।
পরের বছর শততম টেস্ট খেলতে নেমে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কাকে হারায় বাংলাদেশ। সাকিবের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও দুই ইনিংসে ৪৯ ও ৮২ রানের সুবাদে ম্যাচসেরা হন তামিম ইকবাল। ঠিক তার পরের টেস্টটি বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আগস্ট মাসের সেই উত্তেজনাকর টেস্টটি বাংলাদেশ জিতে নেয় ২০ রানে। সেবার ঠিকই ম্যাচ জয়ের কারিগর ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ফের অপেক্ষাকৃত দুর্বল জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জেতে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মিরপুরে উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি ছিল ইনিংস ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রথম জয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর এক বছর পর হারারেতে আবার হারায় বাংলাদেশ। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আসে আরও একটি ঐতিহাসিক জয়। ৮ উইকেটের সেই জয়টি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুধুমাত্র প্রথম টেস্ট জয় নয়, যেকোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও প্রথম জয় বাংলাদেশের। গত বছর ঘরের মাঠে আইরিশ ও আফগানদের হারানোর পর সিলেটে আরও একবার কিউই বধের কীর্তি গড়েন আমাদের ক্রিকেটাররা। আর সবশেষ গতকালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট জিতে এখন কেবল লাল বলে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতকে হারানো বাকি রইল বাংলাদেশের।