থানা ভাঙচুর: দুই মামলায় অজ্ঞাত আসামি ৭০ হাজার

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অজ্ঞাত ৩০ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। গত ২২ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও জানাজানি হয় আজ সোমবার (২৬ আগস্ট)। অবশ্য এর দুইদিন পর গত শুক্রবার (২৪ আগস্ট) রাতে একই অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ৪০ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

এই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ইপিজেড থানায় ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগে অভিযোগে অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছেন ওই থানার উপপরিদর্শক শাকিলুর রহমান। তবে এই দুই মামলা মিলে অজ্ঞাত ৭০ হাজার জনকে আসামি করায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘এজাহারে বর্ণিত ঘটনা প্রমাণের জন্য আদালতে পুলিশকে যথাযথ এবং উপযুক্ত আলামত, সাক্ষ্য—সাবুদ উপস্থাপন করতে হবে।’

সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচ্য দুটি থানা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যারা অস্ত্র, গাড়ি ও মালামাল লুট করেছে তাদের চিহ্নিত করার কি সুযোগ আছে? থানা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এত সংখ্যক আসামি চিহ্নিত করতে পুলিশের গলদঘর্ম হবে। পাশপাশি গ্রেপ্তার বাণিজ্য হবে। নিরীহরা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যা হচ্ছে পুলিশের মনগড়া। শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় এক ডজনের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার  বেশিরভাগ আসামি বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকমীর্রা। এখন সেসব মামলার কি হবে। কোনদিকে যাবে তদন্ত। পাল্টে গেছে চিত্র। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশের করা মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণনারও পরিবর্তন হয়েছে। সবমিলিয়ে হ য ব র ল অবস্থা।’   

কেতোয়ালী থানার মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্ট হাজার হাজার হামলাকারী থানা ভবনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। থানার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মামলার স্পর্শকাতর আলামত পুড়ে গেছে। বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করা হয়েছে। হামলায় প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল হক বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সনের পেনাল কোড আইনের বিবিধ ধারায় বিস্ফোরক আইনের ১৯০৮ এর ৩/৬ ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সনের ১৫(৩)/২৫—ডি ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইপিজেড থানায় করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে দুবৃর্ত্তদের দ্বারা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ১ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি—মিডিয়া) কাজী তারেক আজিজ জানান, ইপিজেড থানায় হামলা—ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর নগরের ১১টি থানা আক্রান্ত হয়। আগুন দেওয়া হয় আটটি থানায়। ছয়টি থানা থেকে লুট করে নেওয়া হয় ৫০০ অস্ত্র ও ১২ হাজার গোলাবারুদ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোতোয়ালি, পতেঙ্গা, ইপিজেড, সদরঘাট ও ডবলমুরিং থানা।