নবান্ন অভিযান ঘিরে সাজ সাজ রব

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন এখনো চলছে। নানা ধাপে বিক্ষোভ, আন্দোলনের পর এবার দাবি উঠেছে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের। আজ পর্যায়ে মঙ্গলবার এ দাবিতে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ এই ডাক দিয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। আরজি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার পর সামাজিক মাধ্যমেই মেয়েদের রাত দখলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই আন্দোলন অভাবিত সাফল্য পায়। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় সেই আন্দোলনে। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার ছাত্রদের এই কর্মসূচি। অবশ্য এর পেছনে বড় ভূমিকা আছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)।

অবশ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তিনজন ছাত্র আছেন এই ডাক দেওয়ার  পেছনে। তারা হলেন সায়ন লাহিড়ি, প্রবীর দাস ও শুভঙ্কর হালদার। প্রবীর বীরভূমের ছেলে, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ। মৌলানা আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছেন সায়ন। শুভঙ্কর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড পড়েন।

সম্প্রতি কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে তারা দাবি করেছেন, সামাজিক মাধ্যমেই তাদের পরিচয়। তাদের দাবি, নির্যাতিতার বিচার, দোষীদের শাস্তি ও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ।

কেন মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া হচ্ছে, জানতে চাওয়া হলে সায়ন বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই স্বাস্থ্য এবং পুলিশ দপ্তর আছে। ফলে তাকেই পদত্যাগ করতে হবে। তার দলে কি অন্য কেউ নেই? নিজে সরে গিয়ে তাকে তো দায়িত্ব দিতে পারেন। শুভঙ্কর হালদার বলেছেন, তারা চান, রাজ্যের সব মানুষ তাদের অভিযানে শামিল হোন। সবার কাছে যাতে বার্তা যায়, সে জন্য রাস্তায় নেমে প্রচার করা হচ্ছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী ইতিমধ্যে ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। ছাত্ররা দাবি করেছেন, অধীর আন্দোলনে যোগ দেবেন। কিন্তু অধীর বলেছেন, তিনি যোগ দেওয়ার কথা একবারের জন্যও বলেননি। অধীর বলেছেন, তাকে যখন এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন এর পেছনে বিজেপি আছে, এমন কথা শোনা যায়নি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, একটা অরাজনৈতিক সংগঠন এই অভিযানের ডাক দিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ যেতে পারেন। যদি পুলিশি বাড়াবাড়ি হয়, বিজেপি ছাত্রদের পাশে থাকবে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, পতাকা ছাড়া কর্মসূচি হবে। ফলে বিজেপি সদস্য, সমর্থকরা চাইলে সেখানে যোগ দিতে পারবেন।

তবে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, বিজেপি চক্রান্ত করছে। তারা মৃতদেহের ওপর রাজনীতি করতে চায়। যদি দাবি ওঠে, জাস্টিস ফর আরজি কর, তাহলে আমরাও আছি। যদি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, তাহলে বলব, ময়দানে বুঝে নেবে বাংলার জনতা।