ম্যাচের ৬৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের একজনের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশ গোলকিপার ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে। তার জায়গায় মাঠে আসেন বদলি গোলকিপার মোহাম্মদ আসিফ। এই তরুণই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের স্মৃতি তাজা করেছেন আসিফ ক্ষিপ্রগতিতে ভারতের দুটি শট রুখে দিয়ে। গতবারের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক এই আসরের শিরোপা স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে মারুফুল হকের শিষ্যরা। বুধবার স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ নামবে শিরোপার লড়াইয়ে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে বেশিরভাগ সময় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে ভারত সেই গোল পরিশোধ করে ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে যায় টাইব্রেকারে। তবে এই ভাগ্য পরীক্ষায় নিজের জাত চেনান আসিফ। রুখে দেন ভারতের প্রথম ও পঞ্চম শট। অন্যদিকে বাংলাদেশ চারটি প্রচেষ্টাই জালে জড়ালে জয়ের হাসি সঙ্গী হয়।
প্রতিপক্ষ ভারত বলেই ঘর সামলে আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মারুফুল হকের। ৪-৩-৩ ফরম্যাশনে তার খেলেছে। যদিও ভারতের চতুর আক্রমণভাগ বারবার হামলে পড়েছে বাংলাদেশের রক্ষণে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা ভারতের গোয়ারির ডান পায়ের শট পা দিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ। দুই মিনিট পর দূর থেকে থিঙ্গুজাম সিংয়ের শট পোস্টে প্রবেশের আগে আয়ত্তে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বল পায়ে রাখতে পারেনি বেশিক্ষণ। বারবার বল হারিয়েছে। কিংবা তুলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের পায়ে। যদিও ৩৬ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাঁদিক থেকে রাব্বি হোসেন রাহুলের লো-ক্রস ভারত কিপার প্রিয়াংস দুবের গ্লাভস ছুঁয়ে চলে যায় আসাদুল মোল্লার কাছে। একটু লাফিয়ে ডান পায়ের ভলিতে বল জালে জড়ান আসাদুল।
বিরতি থেকে ফিরে ভারত আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশকেও ঘর সামলাতে মনোযোগী হতে দেখা যায়। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ নষ্ট করেন ভারতের থিঙ্গুজাম সিং। শ্রাবণকে একা পেয়েও তার ডান পায়ের শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। দুই মিনিট পর সতীর্থের লম্বা বলে কেলভিন সিংয়ের শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। তাতে ভারতের আরেকটা ভালো সুযোগ নষ্ট হয়। ঘড়ির কাঁটা যখন ৬০-এর ঘরে তখন আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করে ভারত। এবার গাংতের ভলি সরাসরি যায় শ্রাবণের কাছে। পরের মিনিটে কেলভিনের শটও আয়ত্তে নেন বাংলাদেশ কিপার। পরের মিনিটে গাংতেকে হতাশ করে সাইড পোস্ট। ৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের লিড অক্ষত রাখেন ডিফেন্ডার কামাচি মারমা। গয়ারির ভলি পোস্টে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ক্লিয়ার করেন এই ডিফেন্ডার। ৬৯ মিনিটে শ্রাবণের জায়গায় মাঠে নামেন আসিফ। এর ছয় মিনিট পরেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। ফ্রি-কিক থেকে ভারতের সমতাসূচক গোলের সূত্রপাত। ভারত অধিনায়ক রিকি হাওবামের গোল মুখের জটলা থেকে বাঁ পায়ের প্লেসিং জালে জড়ায়। ম্যাচটা টাইব্রেকারে গড়ানোর আগ মুহূর্তে কামাচি মারমা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও খুব ক্ষতি হয়নি বাংলাদেশের।
টাইব্রেকারে ভারতের গাংতের নেওয়া প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন আসিফ। এর পর তাদের তিনজন গোল করলেও পঞ্চম শট নিতে আসা আকাশকে হতাশা উপহার দেন বাংলাদেশের বদলি কিপার। অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে সফল পেনাল্টি নেন পিয়াস আহমেদ নোভা, মইনুল ইসলাম, শাকিল আহাদ ও আশরাফুল হক।
এমন জয়ে প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণে ভীষণ খুশি বাংলাদেশ কোচ মারুফুল হক, ‘মাত্র ১৪ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলা ভীষণ কঠিন। সেই কাজটাই আমাদের ছেলেরা করে দেখিয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল ফাইনালে যাওয়া। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে জিতে সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। এখন আমাদের লক্ষ্য নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জেতা। এই টুর্নামেন্টে নেপাল অনেক ভালো দল। তাদের কাছে আমরা গ্রুপপর্বে হেরেছি। অবশ্য সেই হারের পরও আত্মবিশ্বাস ছিল ভারতকে হারানোর।’