কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আজকাল এমন সব ছবি তৈরি হচ্ছে, যা দেখতে বাস্তবের ছবির মতোই মনে হয়। এই ছবিগুলো এতটাই নিখুঁত এবং সূক্ষ্ম যে, একজন অভিজ্ঞ শিল্পী বা ফটোগ্রাফারও প্রথমে বিভ্রান্ত হতে পারেন। ফটোগ্রাফির জগতে এআইয়ের অভাবনীয় উন্নতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তেমনি সত্যিকার ছবি ও কৃত্রিম ছবির মধ্যে পার্থক্য করতে পারার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এআইয়ের তৈরি ছবি কীভাবে চিনবেন, তার কিছু কৌশল জেনে নেওয়া যাক।
রিভার্স ইমেজ সার্চ
এআইয়ের তৈরি ছবির সত্যতা যাচাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো রিভার্স ইমেজ সার্চ। গুগল বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে নির্দিষ্ট ছবি বা ছবির অংশ আপলোড করে সার্চ করা যায়। এভাবে জানা যায়, ছবিটি কোথায় কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর উৎস কী। প্রায়ই এমন ছবি কোনো না কোনো এআই ডাটাবেজে সংযুক্ত থাকে। এমনকি ছবিটির অন্য কোনো সংস্করণ অনলাইনে থাকলেও তা খুঁজে বের করা যায়। এতে ছবিটি আসল নাকি কৃত্রিম, তা বোঝা সহজ হয়ে যায়।
মেটাডেটা নিরীক্ষণ
প্রকৃত ছবির সঙ্গে কৃত্রিম ছবির আরেকটি মূল পার্থক্য হলো মেটাডেটা। ক্যামেরায় তোলা ছবিতে এক্সিফ (EXIF) ডেটা থাকে, যা ছবি তোলার সময় ক্যামেরা সেটিংস, লেন্সের ধরন, শাটার স্পিড, অ্যাপারচার ইত্যাদি তথ্য ধারণ করে। কিন্তু এআই তৈরি ছবি বা ডিজিটাল শিল্পকর্মে এ ধরনের তথ্য থাকে না। কৃত্রিম ছবির ক্ষেত্রে সাধারণত সফটওয়্যারের নাম, এডিটিং প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উল্লেখ থাকে মেটাডেটায়। পরীক্ষা করার জন্য ইমেজ ভিউয়ার বা অনলাইন টুল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ছবির মেটাডেটা বের করতে সাহায্য করে।
সূক্ষ্ম অসঙ্গতি
প্রকৃত ছবিতে ডিটেইলিং বা সূক্ষ্মতা থাকা সত্ত্বেও এক প্রকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে, যা চোখের জন্য আরামদায়ক। অন্যদিকে এআই দ্বারা তৈরি ছবিতে অতিরঞ্জিত ডিটেইলিংয়ের কারণে ত্রুটিগুলো চোখে পড়ে। যেমন চুলের মতো সূক্ষ্ম উপাদানে এআইয়ের তৈরি ছবিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। ছবির প্রান্তিক অংশে টেক্সচার অতিমাত্রায় মসৃণ বা খুব বেশি ঝকঝকে মনে হতে পারে, যা বাস্তবের ফটোগ্রাফির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ ছাড়াও অনেক সময় ছবিতে অস্বাভাবিক রঙের ব্যবহার বা অবাস্তব আকার আকৃতি দেখা যায়। এসব সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলো লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি।
এআইয়ের অঙ্কনশৈলী
এআইয়ের তৈরি ছবিগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু অতিরঞ্জিত বৈশিষ্ট্য থাকে, যা বাস্তব ছবি থেকে একেবারে ভিন্ন। এআই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন করে এবং তা করার সময় অনেক সময় অবাস্তব শৈলী তৈরি হয়। যেমন কোনো দৃশ্যের আলো-ছায়া অতিরিক্ত গাঢ় বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। দিনের বেলায় খুব গাঢ় ছায়া, কিংবা কোনো অবজেক্টের আশপাশে অস্বাভাবিক হালকা আলো, এগুলো বাস্তবতার পরিপন্থী। এই অপ্রাকৃত শৈলীগুলো সহজেই এআই তৈরি ছবি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
বিষয়বস্তুর বাস্তবতা
এআই দিয়ে তৈরি ছবি চেনার সহজ উপায় হলো ছবির বিষয়বস্তুর পরিবেশ বা অবস্থান পরীক্ষা করা। এআই এমন সব ছবি তৈরি করে, যার পরিবেশ বা প্রেক্ষাপট বাস্তবতার সঙ্গে একদমই মেলে না। প্রথম দেখাতে ছবিগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বাস্তব মনে হলেও, খুঁটিয়ে দেখলে এদের পরিবেশে কিছু অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শহরের দৃশ্যে দেখা যেতে পারে একই বিল্ডিং বিভিন্ন অবস্থানে আছে, অথবা কোনো রাস্তার সীমানা অসম্ভবভাবে বাঁকানো, কারও হাত বা পায়ের আঙুলের সংখ্যায় তারতম্য। এসব বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবেই বুঝতে পারবেন ছবিটা এআই নাকি বাস্তব।