পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলা বন্ধ’ কর্মসূচিতেও ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্ন ঘেরাও করেছিল হাজারও বিক্ষোভকারী। তাদের দমন করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে পুলিশ। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা।

গতকাল বিক্ষোভকারীদের দমনে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এতে অনেক মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার পশ্চিমবঙ্গে ১২ ঘণ্টার ‘বাংলা বন্ধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

তবে বিজেপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচীতেও ব্যাপক সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। খবর আনন্দবাজার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালেই বনগাঁ, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগরসহ অনেক রেল স্টেশনে রেল অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। এ সময় এক তৃণমূল কর্মীকে চড় মারার অভিযোগ উঠে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিজেপির বাংলা বন্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় হুগলির মাঙ্কুণ্ডূ স্টেশনেও।

রেল স্টেশনে বন্ধের কারণে ব্যাহত হয় পরিষেবা। চরমে ওঠে যাত্রী ভোগান্তি। ট্রেন না পেয়ে অনেকেই সড়কপথে রওনা দেন গন্তব্যে। বাস ও অটোয় অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ করা যায়।

আনন্দবাজার জানায়, পুরাতন মালদহে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে তৃণমূল-বিজেপি সমর্থকেরা। এ সময় সড়কে বাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে বুধবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। গুলিতে এক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমা-গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতারা।

পুলিশ জানায়, বিজেপির অবরোধের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কোচবিহারেই ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন বিজেপি বিধায়কও রয়েছেন।