নিয়মিত এইচপির সফর চান সবাই

খরচের অঙ্কটা কম নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাইপারফরম্যান্স দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে খরচ সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি। বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তার সবশেষ বোর্ড সভার পর সংবাদ সম্মেলনেও বলেছিলেন এই সফরের ব্যাপারে। অবশ্য এ আর রহমানের কনসার্ট আয়োজন কিংবা স্টেডিয়ামের নকশা এবং পরামর্শক ফি’র কাছে এই অঙ্ক অতি সামান্য। কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন থেকে দেশে ফিরেছে বিসিবির এইচপি দল, সেখানে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হয়েছেন আকবর আলীরা। দল সংশ্লিষ্ট সবারই মত, প্রতি বছরই এই সফরটা রাখা উচিত এইচপি দলের সূচিতে, তাহলে উপকৃত হবেন আগামীর ক্রিকেটাররা।

৯ দলের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে হারটা বাদে পুরো অভিজ্ঞতাই ছিল দারুণ অধিনায়ক আকবরের কাছে, ‘উইকেট খুব যে ভালো ছিল তা বলব না। এ রকম কন্ডিশনে আমরা কখনো খেলিনি, রান করার জন্য অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। যে ভেন্যুগুলোতে খেলা হয়েছে তার মধ্যে গার্ডেন্স ওভাল ব্যাটিং-এর জন্য ভালো ছিল, ওখানেই আমরা ১৭০ রান করেছিলাম। ডারউইনের টিআইও স্টেডিয়ামে যেসব ম্যাচ খেলেছি ওগুলোতে রান কম হয়েছে, অনেক সময় ১৪০ রানও মনে হয়েছে অনেক বড় স্কোর। বিশেষ করে পাকিস্তান এ দলের বিপক্ষে ম্যাচটায় ওদেরও অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে ১৪০ করতে।’ প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আকবরের মূল্যায়ন, ‘৯টা দলের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে ৭টা দল খুবই ভালো। ওই দলগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশের যেসব খেলোয়াড় নিয়মিত খেলে, যারা এখন জাতীয় দল এবং বিদেশি লিগে খেলছে না তারা খেলেছে। ঝাই রিচার্ডসন, স্কট বোল্যান্ড, উইল সাদারল্যান্ডের মতো অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটাররা এই দলগুলোতে খেলেছে। মনে করেন প্রিমিয়ার লিগ চলার সময় যদি বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোনো সিরিজ থাকে, তাহলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক এ রকম দল যেমন হয় সে রকম দল ছিল। খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে খেলা।’

এইচপি দলের ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ জানালেন তার মূল্যায়ন, ‘খুবই ভালো একটা সফর ছিল। ছেলেরা অনেক কিছু শিখেছে, আমিও শিখেছি। পাকিস্তান শাহিনস-এর সঙ্গে একটা ৪ দিনের ম্যাচ হারলাম, পরেরটা জিতলাম। এরপর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে রানার্স আপ। প্রাপ্তি হিসেবে এই সাফল্য কম নয় তবে অভিজ্ঞতাটা আরও বড় প্রাপ্তি। অস্ট্রেলিয়াতে এসে খেলা, প্রতিপক্ষ দলগুলো খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলেছে। তাদের সঙ্গে খেলে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে।’ সাবেক এই অধিনায়ক আরও জানালেন কোচ হিসেবেও অনেক কিছু শিখে এসেছেন অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে, ‘জেসন গিলেস্পির সঙ্গে কথা হয়নি, তবে ওদের যে ব্যাটিং কোচ ছিল তার সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকের সঙ্গেই আলাপ হয়েছে। আমি অস্ট্রেলিয়ান কোচদের অনুশীলন করানোর কৌশল দেখছিলাম, তারা ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করে। আমরা খুব একটা পিছিয়ে নেই।’ রাজিনের এই গুণটার কথা বলেছেন আকবরও, ‘রাজিন ভাই খুব এনার্জেটিক, কখনো কখনো মনে হয় উনার এনার্জি প্লেয়ারদের চেয়ে বেশি। উনি খুব বেশিদিন আগে খেলা ছাড়েননি। আধুনিক ক্রিকেটের কোচিংটা কেমন এই ব্যাপারটা উনি খুব ভালো জানেন।’

সাবেক ক্রিকেটার জামাল বাবু বিসিবিতে কাজ করছেন এইচপির ম্যানেজার হিসেবে। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী আসরে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে নর্দার্ন টেরিটোরি ক্রিকেট, ‘আগামী আসরেও আমাদের খেলতে যাওয়ার জন্য বলে রেখেছে এনটি ক্রিকেট। এই আসরটা তারা আরও বড় করতে চায়, নিউজিল্যান্ড থেকেও দল আনতে চায়। প্রতি বছর যদি এই সফরে দল পাঠানো যায় তাহলে আমাদের ক্রিকেটারদের অনেক উপকার হবে।’

অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর বিশ্রাম শেষে আগামী সপ্তাহেই মাঠে ফিরছে এইচপির ক্রিকেটাররা। জামাল বাবু জানালেন, ‘আমাদের এইচপির ক্রিকেটারদের নিয়ে ক্যাম্প শুরু হচ্ছে সেপ্টেম্বরের ২ বা ৩ তারিখ। ১৫ দিন ক্যাম্প চলবে। এরপর ক্রিকেটাররা চলে যাবে এনসিএল (জাতীয় ক্রিকেট লিগ) খেলতে। তারপর অক্টোবরে এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ আছে, যেটা হবে ওমান অথবা ইউএইতে। সেই টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে।’ এইচপির ম্যানেজার আরও জানিয়েছেন, প্রধান কোচ কোরি কোলিমোর ও ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহর পাশাপাশি এইচপির জন্য একজন স্পিন বোলিং কোচের সন্ধান করছে বিসিবি।