চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পারকি সৈকত পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজে চরম গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ শেষ না হতেই ফের হেলে পড়েছে কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীর। গত কয়েক দিনে সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশের প্রায় ২০০ ফুট দেয়াল হেলে যায়। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও সীমানাপ্রাচীরের উত্তর পাশের অংশ হেলে পড়ে। ২০২০ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও চার দফা। সর্বশেষ এ বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে নির্মিত ৭-৮টি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কৌশলে মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন ঠিকাদাররা। এর মধ্যে নানা অনিয়মের কারণে সীমানাপ্রাচীরসহ অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে এসব কাজ টেকসই হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই প্রকল্প এলাকার কয়েকটি ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঠিকাদারের লোকদের জানালেও তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশের সীমানাপ্রাচীরের মাঝখানে বিশাল অংশ হেলে পড়েছে। কয়েক স্থানে প্রাচীরের অংশ ভেঙে পড়েছে। হেলে পড়া প্রাচীর দিয়ে বালু বের হয়ে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বালু আটকাতে গাছের গুঁড়ি দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রকল্প এলাকার কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল দেখা গেছে।
পর্যটন করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পারকি সৈকত এলাকায় ১৩ দশমিক ৩৩ একর জায়গায় আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এক বছরের এ প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও চার দফা। সর্বশেষ এ বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু এখনো প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের কাজগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন করছে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে সীমানাপ্রাচীর ও গেটপোস্টের কাজ করছে রাজ করপোরেশন। বালু ভরাট, রাস্তা ও নালার কাজ করছে নিয়াজ ট্রেডার্স। অন্যদিকে অবকাঠামোগত কাজগুলো করছে দেশলিংক লিমিটেড। এর মধ্যে দেশলিংক লিমিটেডের বেশিরভাগ কাজই থমকে আছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজ করপোরেশনের পরিচালক সুজন সিংহ বলেন, ‘নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশ হেলে পড়েছে। তবে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই এটি সংস্কার করে দেব।’
এ বিষয়ে প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকৌশলী অসীম শীল বলেন, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে সীমানাপ্রাচীরের নিচে যে ছিদ্রগুলো রয়েছে, তা পানি নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই পানি আর বালুর চাপে সীমানাপ্রাচীর হেলে পড়েছে। সীমানাপ্রাচীর ঠিক করাসহ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে।