কুড়িগ্রামে গরমের সাথে তীব্র লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে গরমের সাথে তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। যার ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলাবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

কয়েকদিন থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায়  চরম বিপাকে পড়েছেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালী কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।  

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেচ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সেচ প্রকল্পের বেশিরভাগ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হওয়ায় আমন চাষে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ব্যবসায়ী আবু মিয়া জানান, ‘এক ঘন্টা পরপর কারেন্ট যায়। মাঝে মাঝে টানা দেড়- দুই ঘন্টাও লোডশেডিং চলে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করা যাবে না।’

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়, কুড়িগ্রামের টগরাইহাট গ্রিডে জেলার ৫ টি উপজেলার (সদর, উলিপুর,চিলমারী, রাজারহাট ও ভূরুঙ্গামারী)  জন্য মোট চাহিদা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৮ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট।

নেসকোর’ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম শহরে নেসকোর আওতাধীন প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ১৩ মেগাওয়াট । এই চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রামে আমাদের প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। আমরাও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পাচ্ছি। ফলে আমাদের আওতাধীন সঞ্চালন লাইনে লোড শেডিং চলছে।’