নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা বাজারের বাবু টকিজ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে যৌথ বাহিনীর টহল দেখে উভয়পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান কমিটির সদস্য) মাসুদ রানা পাটোয়ারীর নেতৃত্বে একটি দল এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেকটি দল দোয়া মাহফিল কর্মসূচি আহ্বান করে। ওই কর্মসূচি ঘিরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ কিশোরীগঞ্জ বাজার এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মাসুদ রানা পাটোয়ারীর সমর্থকরা প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দেন। পরে মামুন-তাজুলের নেতৃত্বে তাদের কর্মী-সমর্থকরা এক হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন। এরপর দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
এতে মাসুদ পাটোয়ারীর ভাই কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে করেন, এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও থানার সঙ্গে কথা বলে স্থান নির্ধারণ করেছি। কিন্তু পরে শুনি মামুন-তাজুল লোকজন সেখানে দোয়া মাহফিল করবে। সমস্যা সমাধানের জন্য আমি মামুন ও তাজুল ইসলামকে ফোন দিয়ে বলেছিলাম। এরপর শনিবার রাতে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে আসে। আমার লোকজন ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান। পরে এলাকার মাস্তানদের যোগসাজশে তারা লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুট করেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন পাল্টা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মাসুদ রানা পাটোয়ারীর সদস্য পদ স্থগিত রয়েছে। তার ছোট ভাই সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের ঘোষণা দেন মাসুদ রানা। সোহরাওয়ার্দী জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন তিনি নিজেকে বিএনপি দলীয় দাবি করছেন।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে আমিসহ দলের নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসে ছিলাম। একপর্যায়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাসুদ রানার নেতৃত্বে লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও বাজারের লোকজন তাদের ধাওয়া করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি পলাশ চন্দ্র মন্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’টি পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। প্রথমে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আসায় দু’টি পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।