টেকনিক্যাল সেন্টারের জায়গা বদলেছে, তবে...

পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ফিফার অর্থায়নে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ করতে পারছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ফিফা তাদের ফরোয়ার্ড প্রকল্পের অধীনে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য ৩.৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা) বরাদ্দ দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। শর্ত ছিল চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণকাজ শুরুর। তবে ডেডলাইনের চার মাস আগে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ একর বরাদ্দকৃত জমি বাতিল করা হয়েছে।

রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে। একই চিঠিতে রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ১৯.১ একর জমিতে টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার কক্সবাজারে স্থাপন করতে রাজি নয়। যেহেতু নতুন করে সব কিছু শুরু করতে হবে, তাই তাদের চাওয়া সরকার ঢাকা কিংবা তার আশপাশে কোনো জায়গা বরাদ্দ দিক।

রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চিঠিতে বলা হয়েছেÑ পূর্বে বরাদ্দকৃত জমি সংরক্ষিত বনাঞ্চল মর্মে বিভিন্ন অংশীজন সূত্রে অবহিত হওয়া গেছে, যা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তথা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উক্ত স্থানের পরিবর্তে একই উপজেলার ধলিরছড়া মৌজায় দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যক্ত ১৯.১ একর জায়গায় টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের জন্য অংশীজন কর্র্তৃক বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খতিয়ে দেখে বিকল্প স্থানে টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। এ ব্যাপারে বাফুফের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের কাজ ধরতে না পারলে বরাদ্দ ফেরত চলে যাবে। সরকার কিন্তু আমাদের আগের জমি বরাদ্দ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তবে পরিবেশবাদীরা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ফিফাও আমাদের বিশেষজ্ঞ মতামত নিতে বলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে সেই জায়গা ব্যবহারের কথা বলা হয়। তারপরও আমরা নিজেরাই চাই না কোনো বন নষ্ট করতে। তাছাড়া আমরা কিন্তু কক্সবাজারের সেই জমি সরকারের কাছে চাইনি। তারাই আমাদের বরাদ্দ দিয়েছিল। এখন বিকল্প জায়গার কথা বলা হলেও আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব যাতে ঢাকা বা তার আশপাশে কোথাও আমাদের জমি বরাদ্দ দেয়। তাতে করে টেকনিক্যাল সেন্টার আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব। তাছাড়া ঢাকার আশপাশের জমি বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে আমরা একটা স্টেডিয়ামও সেখানে স্থাপন করতে পারি। কক্সবাজারে হলে এই সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় আমাদের অনেক বেশি ব্যয় হবে। ঢাকার আশপাশে হলে আমরা এর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারব।’

যেহেতু সময় হাতে আছে মাত্র চার মাস। তাই বাফুফে চাচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে। তাদের বিশ্বাস ফুটবলের স্বার্থের কথা চিন্তা করে ক্রীড়া উপদেষ্টা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।