যুদ্ধবিরতি চুক্তির দাবিতে উত্তাল ইসরায়েল, শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে হামাসের হাতে আটক আরও ছয় জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। জিম্মিদের অতিদ্রুত উদ্ধারে যুদ্ধবিরতির দাবীতে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে তেল আবিবে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে ইসরায়েলের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘটের ডাক দেয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করে বাকী জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এবং বিক্ষোভে “এখন! এখন!” স্লোগান দিতে থাকেন।

হাজারও ইসরায়েলি তেল আবিবে রাস্তা অবরোধ করেন এবং পশ্চিম জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বাইরেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভে ইসরায়েলের প্রধান এবং বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন, হিস্টাড্রুট দ্রুত জিম্মি চুক্তির জন্য চাপ দিয়ে সোমবার দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

শ্রমিক ইউনিয়ন জানায়, ইসরায়েলের প্রধান বিমান পরিবহন কেন্দ্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সোমবার সকাল ৮ টা থেকে বন্ধ থাকবে। এছাড়া ধর্মঘটের সময় ব্যাংকিং এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ ইসরায়েলের অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোকে বন্ধ বা কার্যক্রম ব্যাহত করার লক্ষ্যও নিয়েছে এই ইউনিয়ন।

হিস্টাড্রুটের প্রধান আর্নন বার-ডেভিড বলেছেন, ‘একটি চুক্তি অন্য যেকোনও কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা চুক্তির পরিবর্তে মরদেহের ব্যাগ পাচ্ছি।’

ইসরায়েলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র তেল আবিবের পৌর পরিষেবাগুলোও সোমবারের এই ধর্মঘটে বন্ধ থাকবে। ইসরায়েলের ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তারা এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে এবং বন্দিদের জীবিত ফিরিয়ে আনতে সরকার তার ‘নৈতিক দায়িত্ব’ পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড।