ফ্রিল্যান্সিং করার আগে যা ভাববেন

অনেকেই চাকরি না করে ফ্রিল্যান্সিং করার কথা ভাবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে একদিকে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে তেমনি আয়ের পরিমাণও বেশি। কাজের স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি কাজের স্থান ও সময়ের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম থাকে না বলে অনেকেই এ পেশায় আসতে চান।  ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসার আগে এ ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলোও জানা থাকা জরুরি। একাকিত্ব, রাত জেগে কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা, সামাজিক স্বীকৃতির আক্ষেপের মতো অনেক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার মনে করেন, অনেক সময় ক্লায়েন্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হয় বলে ফ্রিল্যান্সারকে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। চাকরিতে নির্দিষ্ট বেতন থাকলেও ফ্রিল্যান্সিং কাজ সব সময় হাতে না-ও থাকতে পারে। কাজের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। যারা চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চান, তাদের জন্য কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

কাজের বিস্তারিত তথ্য জানা

অনেকেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্টদের চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা না নিয়েই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ কারণে তারা কাজ পান না। আবার কাজ পেলেও নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কাজ জমা দিতে পারেন না। ফলে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কম রেটিং পাওয়ার কারণে অন্য ক্লায়েন্টও আর কাজ দেন না। এক সময় হতাশ হয়ে পড়েন তারা। হতাশ হলে হবে না, দক্ষতা এবং আগ্রহ থাকলে এক সময় ঠিকই ফ্রিল্যান্স কাজ করে সফল হওয়া সম্ভব।

নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক

আপনার সঙ্গে অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যার মাধ্যমে আপনি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন তখন কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের থেকে সাহায্য নিতে পারবেন। তাছাড়াও আপনার নেটওয়ার্ক যত বেশি শক্তিশালী হবে ফ্রিল্যান্সারদের ক্যারিয়ারের জন্যও অনেক ভালো হবে।

পরিশেষে বলা যায়, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার যদি আপনি গড়তে চান তবে আপনাকে সেটির জন্য ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সবসময় শিখতে হবে, শেখার মানসিকতা রাখতে হবে। যে নিয়মকানুনগুলো জানলে ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন।

ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন

কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে হলে আপনাকে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ভালো কমিউনিকেশন করার দক্ষতা থাকতে হবে। ইংলিশে একদম ভালো না হলেও মোটামুটি ভালো হতে হবে যাতে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ভালো কমিউনিকেশন করা যায়। যার সাহায্যে আপনি যদি কোনো ক্লায়েন্ট পেয়ে যান তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজের সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন।

নিজে মার্কেটিং করুন, মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ পেতে নিজের মার্কেটিং অনেক বেশি কাজে আসে। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ এবং বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার ফ্রিল্যান্স কাজগুলো প্রচার করুন। শেয়ার করুন যাতে করে অনেকের চোখে পড়ে এবং যারা আপনি যে কাজটি পারেন সে কাজটি করাতে চাচ্ছে তারা যেন এটি দেখে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

চুক্তি ও আইনি সুরক্ষা, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করার সময় সব সময় চুক্তিভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করুন যাতে কোনো ভাবে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা না থাকে এবং শিকার হলেও আপনি যাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পান।

কাজ করুন দক্ষতা অনুযায়ী

আপনার দক্ষতা কি ফ্রিল্যান্সার হওয়ার উপযোগী? অনেকেই না বুঝে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে চান। মনে রাখবেন, এটা দক্ষ ব্যক্তিদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে সীমিত দক্ষতা নিয়ে টিকে থাকা কঠিন। কাজের ক্ষেত্র নষ্ট করলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাই কাজ না জেনে এ ক্ষেত্রে আসা উচিত হবে না। বাড়িতে বসে কাজ করার বিষয়টি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এ কাজ শুরুর আগে এ ক্যারিয়ারে আসার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। ফাইবার, আপওয়ার্কের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি, যেমন ডিজাইন, মিউজিক ও অডিওর পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ও টেক খাতে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যাপক কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে এ খাতে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার আগে আপনি কোন খাতে ভালো করবেন, সেটি ভাবুন।