শোয়েবের শহরে চাঁপাই এক্সপ্রেস

গত বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের জার্সিতে ঘণ্টায় ১৪৯.৭ কিলোমিটার গতিতে সাকিব আল হাসানকে একটি বল করেছিলেন নাহিদ রানা। ওই আগুনে বোলিং দিয়েই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা এ পেসার জানিয়েছিলেন ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার ইচ্ছার কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে গতিময়, ঘন্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতির বলের রেকর্ড পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের। ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’-এর শহর রাওয়ালপিন্ডিতেই আগুন ঝরাচ্ছেন বাংলাদেশের এক তরুণ নাহিদ রানা। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সালমান আগাকে করা ২৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি ১৪৯.৪ কিলোমিটার গতিতে করেন নাহিদ।

বাংলাদেশের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্তর মতে, ‘বর্তমানে আমার দেখা নাহিদই সবচেয়ে জোরে বল করছে। আর সত্যি কথা বলতে, নাহিদ তো মাত্র শুরু করেছে, ফিটনেস ও ট্রেনিংয়ের অনেক ব্যাপার আছে। আমার মনে হয় ওর ভবিষ্যৎ অনেক ভালো এবং সামনে অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে এবং আরও জোরে বল করবে।’ শান্ত বলেন, ‘মাশরাফী যখন শুরু করেছিলেন তখন অনেক জোরে বল করতেন। তবে সেটা প্রতিনিয়ত ঘণ্টায় ১৪৯-১৫০ কিলোমিটার গতিতে হতো কি না, সন্দেহ রয়েছে। তবে ইনজুরিতে পড়ার আগে সেই সময় জোরেই বল করত। এর আগের প্রজন্মে প্রযুক্তিও এত আধুনিক ছিল না। পেসাররা এখনকার মতো অনুশীলন সুযোগ-সুবিধাও পেতেন না। এখনকার সময়ে ১৪০-১৪২ কিলোমিটার গতিতে বল করছে এমন আরও পেসার আছেন। তবে কন্টিনিউ ১৪৫ গতিতে এখন নাহিদ রানাই সবচেয়ে জোরে বল করছে। এর আগেও এত জোরে বল করা বোলার ছিল না।’

ছোট একটি আফসোস অবশ্য রয়ে গেছে। তৃতীয় টেস্টেই ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের আনন্দ পেতে পারতেন নাহিদ। সেটি না হলেও ৪৪ রানে ৪ শিকার ধরে ম্যাচটি যে বাংলাদেশের মুঠোয় এনে দিয়েছেন, তার আনন্দই বা কম কীসে। সঙ্গে দেশের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম পেসাররা মিলে কোনো ইনিংসে সবগুলো উইকেট পেলেন। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট ও নাহিদের ৪ শিকারের পর বাকি উইকেটটি নেন তাসকিন আহমেদ। ইউনিট হিসেবে পেসারদের এমন দাপটের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ নাহিদ রানা। এ বিষয়ে হাসিবুল বলেন, ‘আমাদের পেস অ্যাটাক কিন্তু চমৎকার সাপোর্ট দিয়ে গেছে। তাসকিন ছিল না প্রথম ম্যাচে তারপরও কিন্তু পেসাররা দারুণ করেছে। এই ম্যাচে শরিফুল খেলতে পারছে না ইনজুরির জন্য। এ ছাড়া আমাদের বেঞ্চে খালেদ আছে, এবাদতের মতো বোলার আছে। যেকোনো মুহূর্তে তারাও খেলতে পারবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে কিছু পেসার আছেন যারা হয়তো সামনের সময়গুলোতে আসবেন। সামনের দিনগুলোর জন্য এটা একটা বড় পাওয়া যে, আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো। অন্তত পেস বোলার নিয়ে আমাদের এখন কোনো চিন্তা করতে হবে না। এখন পর্যন্ত আমরা খুব ভালো পেস বোলিং করছি।’

কাল নিজের তৃতীয় বলে শান মাসুদ, পরের ওভারে বাবর আজম ও তৃতীয় ওভারে সৌদ শাকিলের উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে দেওয়ার কাজটা দারুণভাবে করেছেন নাহিদ। ২০২১-২২ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩২ উইকেট শিকার করেছিলেন নাহিদ। যা ছিল ১১ বছর পর ঘরোয়া প্রথম শ্রেণিতে গড়া কীর্তি। ৩ টেস্ট শেষে ১১ উইকেট নিয়ে দৌলত উজ-জামান, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা, গোলাম নওশের প্রিন্স, হাসিবুল হোসেন শান্ত, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাদের উত্তরসূরী হিসেবে নিজের আগমনী বার্তাটিও জানিয়ে রাখলেন চাঁপাই এক্সপ্রেস।