কাজে আসছে না শেখ পরিবারের নামে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প

২০১৭ সালে শেখ হাসিনার নামে যশোরে একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা হয়। ৩০৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা এই পার্ক কোনো কাজে আসেনি। দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। লোকসান ঠেকাতে এখন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ কামালের নামে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণ করা হয় ২০২২ সালে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অনেকটা ‘অব্যবহৃত’ পড়ে আছে সুরম্য ভবন, কম্পিউটার ও ডরমিটরি।

শুধু যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক কিংবা চট্টগ্রামের শেখ কামাল প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নয়। শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে একের পর এক নেওয়া হয়েছে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প যার বেশিরভাগ এখন আর কাজে আসছে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল বিনোদনকেন্দ্র, সাফারি পার্ক, দৃষ্টিনন্দন ভবন, নভোথিয়েটার, আইসিটি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ডিজিটাল ল্যাব। আর এ প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, ছেলে শেখ কামাল ও শেখ রাসেলের নামে। যার বেশির ভাগেরই কাজ শেষ হয়েছে; কিন্তু কাজে আসছে না। স্থাপনা নির্মাণের পর তা ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও নেই পর্যাপ্ত জনবল আবার কোথাও প্রকল্পের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। 

সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে শুধু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৮২টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৮টি প্রকল্পের কাজ শেষ, বাকি ৪৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর বাইরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টসহ (বিসিসিটি) সরকারের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান শেখ পরিবারের নামে প্রকল্প নিয়েছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে আরও ৪৩টি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রীদের চাপে বা রাজনৈতিক বিবেচনায় আবার উৎসাহী কর্মকর্তাদের প্ররোচনায় এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শেখ পরিবারের নামে হওয়ায় এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি কেউ। 

শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে যখন প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়, সেই সময়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইসিটিকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হতো। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত অনেকেই অস্বাভাবিক খরচের বিষয়টি বুঝতে পারতেন; কিন্তু প্রশ্ন তোলার সাহস পাননি।

তারা বলেন, শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রকল্পগুলো আটকানো যেত না। এসব প্রকল্পের পেছনে ছিলেন প্রভাবশালীরা। তাঁরা নিজের এলাকার জন্য প্রকল্পগুলো পাস করে নিতেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জনগণের টাকা আত্মসাতের বহুমুখী উপায় ছিল। এর মধ্যে একটি হলো শেখ পরিবারের নাম ব্যবহার করে প্রকল্প নেওয়া। এই পরিবারের নাম ব্যবহার করে প্রকল্প নিলেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে যাওয়া যায়, সবাই এটি জানত। এ জন্য বিচারহীনতা তৈরি হয়েছে।