সমন্বয়কদের আল্টিমেটাম: রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আল্টিমেটামের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান । মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। আজ বিকালে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। এতে আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দেওয়া আলটিমেটামের কারণে পদত্যাগ করেছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসানকে পদত্যাগ করতে আজ সকাল ১১ টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। এ ব্যাপারে গতকাল রাতে ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরী লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে চলে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন ক্লাস শুরু করা হয়। উপাচার্য  নিয়োগের অপেক্ষা না করে ডিনদের সঙ্গে বসে ক্লাস চালু করতে তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এখন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। তিনি চাইলে ডিনদের সঙ্গে সভা করে ক্লাস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ফোনও রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পেছনের তারিখে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।’


এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষসহ অন্তত ৭৮ জন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এতে অচলাবস্থা চলছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। এরই মধ্যে আজ সকালে রেজিস্ট্রার পদত্যাগ করেছেন।