রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর প্রথমবারের মতো আইসিসিভুক্ত দেশ মঙ্গোলিয়া সফর করেছেন। মঙ্গলবার পুতিন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে পৌঁছান। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। খবর বিবিসির।
গত বছর আইসিসি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর এটি আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্যভুক্ত কোনো দেশে পুতিনের প্রথম সফর। আইসিসির সদস্য মঙ্গোলিয়া যদি পুতিনকে গ্রেপ্তারের আদেশ পালন না করে, তবে আদালতের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে, পুতিনের এই সফরকে আন্তর্জাতিক মহল গভীর নজরে রাখছে। কারণ এটি শুধু রাশিয়া-মঙ্গোলিয়া সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলেও, এই সফর আইসিসির নীতি এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আইনের প্রতি সম্মানের প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া, পুতিনের এই সফর পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরও পুতিনের মতো একজন নেতার এমন সফর আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, মঙ্গোলিয়ার সরকার পুতিনকে গ্রেপ্তারের আহ্বানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখের এক মুখপাত্র গত রোববার জানিয়েছেন, মঙ্গোলিয়া সফরে গেলে পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে হবে—আইসিসি চিঠি পাঠিয়ে এমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুতিনকে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এই অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি থেকে অসংখ্য শিশুকে বেআইনিভাবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ায় দায় রয়েছে পুতিনের।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যভুক্ত একটি রাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের পরোয়া না করে পুতিন কীভাবে সফর করবেন—এ বিষয়ে আদালতের মুখপাত্র ডক্টর ফাদি আল-আবদুল্লাহ বিবিসিকে জানান, আদালত তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে মঙ্গোলিয়াসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে। অন্যান্য আইসিসি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রের মতো মঙ্গোলিয়ারও সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৩ সালে পুতিনকে গ্রেপ্তারে যে আদেশ জারি হয়েছিল, সেটিও এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া সফরের আগে ইউক্রেন পুতিনকে গ্রেপ্তার করার জন্য মঙ্গোলিয়াকে অনুরোধ করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রাম বার্তায় বলেছে, আমরা মঙ্গোলিয়ান কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে চলার জন্য এবং পুতিনকে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্থানান্তর করার আহ্বান জানাচ্ছি।"