রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে ভিড় বাড়ছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। এরমধ্যে কেউ নতুন করে নিবন্ধন চাইছে কেউ আবার পুরোনো নিবন্ধন ফিরে পেতে চাইছে। সব মিলিয়ে বেশ চাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধন পেতে আবেদন করে শতাধিক দল। প্রাথমিক বাছাই ও দলিলপত্র পর্যালোচনার পর ১২ দল টিকেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন পায় বিতর্কিত দুই দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। এ নিয়ে বেশ সমালোচায় পড়তে হয় আউয়াল কমিশনকে।
ইসির তালিকা থেকে বাদ পড়া দলগুলোর নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের চাওয়া সব তথ্য দিয়ে শর্ত পূরণ করে তারা আবেদন করেছিলেন। তাদের নিবন্ধন না পাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু তৎকালীন সরকার রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করায় তারা নিবন্ধন পায়নি। এখন এসব দল নিবন্ধন পেতে ইসিতে এসেছে।
এদিকে গতকাল সোমবার গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ও নাগরিক ঐক্যের নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর নিবন্ধনের আশায় আজ মঙ্গলবার লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণ অধিকার পরিষদ (রেজা কিবরিয়া নেতৃত্বাধীন) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নিবন্ধন ইসিতে আসে। কিন্তু ইসি সচিব শফিউল আজিম অফিসে না আসায় নিবন্ধনপ্রত্যাশী দলগুলো অপেক্ষা করে ফিরে যান।
গণ অধিকার পরিষদ-জেওপি একাংশ ইসির নিবন্ধন পেলেও হাইকোর্টে মামলা থাকায় আটকে গেছে রেজা কিবরিয়ার গণ অধিকার পরিষদের নিবন্ধন। ইসি নিবন্ধন না দেওয়ায় রেজা কিবরিয়া এই মামলা (রিট আবেদন) করেছিলেন। নিবন্ধন পেতে রেজা কিবরিয়ার অনুসারীরা গত দুদিন ধরে ইসিতে ঘুরছেন।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হলে নিবন্ধন নিতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই আমরা আবেদন করেছিলাম। যদিও এই আইনটা অনেকটা স্বৈরাচারী।
তিনি বলেন, প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরে নতুন ইসি আইন লঙ্ঘন করেও অনেককে নিবন্ধন দিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বিপ্লবের পরে এমনটা হওয়া বেমানানা। আমাদের গণঅধিকারের নিবন্ধন বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তাই এটা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আদালত ও ইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সেক্রেটারি তাসবীর লস্কর বলেন, গত বছর আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলাম। প্রাথমিক বাছাইয়ে যে ১২টি দল রাখা হয়েছিল, সেই তালিকায় আমরাও ছিলাম। তবে এক পর্যায়ে আমাদের গঠনতন্ত্রের একটি ধারা সংশোধনের জন্য বলে, আমরা সেটি সংশোধন করে জমাও দিই। কিন্তু তারপরও আমাদের বাদ দেওয়া হয়।