মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতবে- এই স্বপ্ন সম্ভবত কেউই দেখেনি। কিন্তু বাস্তবে সেটা করে দেখিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে বিসিবিতে এসেছে পরিবর্তন। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বিদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। কিন্তু পাশার দান উল্টে গেল এই সফরে।
দেশ ও দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে বাজেভাবে পরাজয়টাই অনেকে নিয়তি হিসেবে ধরে নিয়েছিল। এতে হাথুরুসিংহেকে পত্রপাঠ বিদায় করতে ফারুক আহমেদের সুবিধা হতো। কিন্তু পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার পর সেটা আর হচ্ছে না। এত বড় সাফল্য এনে দেওয়া কোচকে পত্রপাঠ বিদায় করবে বিসিবি? বিভিন্ন সূত্র বলছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ফারুক আহমেদের সঙ্গে হাথুরুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো না হলেও তার প্রভাব এক্ষেত্রে আপাতত নাও পড়তে পারে।
গতকাল রাতে দেশে ফিরেছে সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ দল। শান্তদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন হাথুরুসিংহেও। বিমানবন্দরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোচিং প্যানেলের ছুটি। ধারণা করা হচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবারই বিসিবির সঙ্গে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন হাথুরু। এ মাসেই ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। তার আগে হাথুরুকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই শোনা যাচ্ছে। এমনকী তিনি আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্তও টিকে যেতে পারেন!
এদিকে জনমত অবশ্য হাথুরুসিংহের বিপক্ষেই। তার বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র, কারও কথা না শোনা, দলে বিভেদ তৈরি এমনকী ক্রিকেটারের গায়ে হাত তোলার মতো অভিযোগও আছে! পাশাপাশি দারুণ সব সাফল্যও এসেছে হাথুরুর অধীনে। বিশেষ করে পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ জয়ের মতো অবিস্মরণীয় ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনাতেও এসেছে পরিবর্তন। হাথুরুকে রেখে দেওয়ার পক্ষে অনেকেই। এখন দেখার, বিসিবি কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।