বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর লাশ তুলে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নিশ্চিতে মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর আনা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এ, কে, এম, আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহদিন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেদওয়ান আহমেদ রানজিব।

হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা সামিরা বলেন, বাবাকে মিথ্যা মামলায় হেনস্তা করা হয়েছে বারবার। তার মৃত্যু নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হয়, যা অত্যন্ত বেদনার। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক। তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। আমরা চাই, লাশের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ধোঁয়াশা যেন দূর হয়।

তিনি বলেন, ৬৮ বছর বয়সে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে তার বাবা মারা গেছেন। ঢাকার অদূরে একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

হারিছ চৌধুরী ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালো রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর লাপাত্তা হয়ে যান হারিছ। ২০২১ সালের শেষ দিকে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে হারিছের কথিত মৃত্যুর খবর আসে। তবে কোথাও বলা হচ্ছিল, হারিছ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা গেছেন। কোথাও বলা হয়, হারিছ মারা গেছেন লন্ডনে।

২০২২ সালের ৬ মার্চ একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, হারিছ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালেই মারা যান ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। তার আগে ১১ বছর মাহমুদুর নামে ঢাকার পান্থপথের একটি ফ্ল্যাটে থাকছিলেন তিনি। মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে হারিছকে ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের জালালাবাদের কমলাপুর এলাকায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীন মাদ্রাসায় ৪ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয় বলেও দাবি করা হয়।