দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংস্কারে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল কমিটি গঠন করে সরকার। এই কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ। এই কমিটিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রতিনিধি না রাখায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাজীবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পরিষদ বলে, কমিটিতে যে সকল সম্মানিত সদস্যদের রাখা হয়েছে তারা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার শুধু একটি অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। গঠিত কমিটিতে চিকিৎসক ব্যতীত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে অন্যান্য অংশসমূহের সাথে জড়িত বা তাদের প্রতিনিধিত্বকারী জনবল, যেমন- মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে কোন প্রকার প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এতে কমিটির সার্বজনীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। গঠিত কমিটি স্বাস্থ্য সেবার অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের দাবি-দাওয়া, বৈষম্য নিরসন, সংস্কার কিংবা স্ব স্ব ক্ষেত্রসমূহের কল্যাণ ও উন্নয়নমুখী চাহিদা, মতামত বা মন্তব্য প্রদানের জন্য কিভাবে সংযুক্ত হবেন বা কিভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করবেন, সে বিষয়ে কোনরকম স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বরাবরের মতোই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে একপেশে মনোভাবের একই দৃশ্য দৃশ্যমান হলো। এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সংক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করি, প্রতিবাদ জানাই এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য সকল জনবলদের প্রতিনিধিত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।
বিবৃতিতে বলা হয়, চিকিৎসা সেবার দুটি অংশের (রোগ নির্ণয়সেবা ও রোগ নিরাময় সেবার) মধ্যে রোগ নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তাদের রোগ নির্ণয় সেবার পুরোধা বলা হয়, কিন্তু অধিকার বা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বঞ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে ছাত্র- জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান, সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে এক নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এদেশের গণমানুষের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আশার সঞ্চার করেছে। জনগণ তাদের অন্যসব অধিকারের পাশাপাশি সর্বজনীন চিকিৎসাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে গণমুখী করতে হলে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল জনবলের অধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যবশকীয়। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে সকলকে সাথে নিয়েই একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
পরিষদ জানায়, স্বাস্থ্যসেবা একটি টিম ওয়ার্ক। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। পর্দার অন্তরালে কাজ করা এ পেশাজীবীরা নানাবিধ পেশাগত সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু নানা অজুহাতে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ পেশায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি, বরং অবদমনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থেকেছে বছরের পর বছর।
পরিষদ মেডিকেল টেকনোলজি পেশার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এর সমস্যাসমূহ উপস্থাপন, বিশ্লেষণ, মতামত প্রদানের নিমিত্তে গঠিত প্যানেলে অংশীদারিত্বের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানায়।