দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরার বাইরে তানজিন তিশা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এরপর বন্যা সবকিছু মিলিয়ে যেন স্থবির শোবিজ অঙ্গন। তবে এখন কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় অনেকেই কাজে ফিরছেন। তবে এই অভিনেত্রী এখনো ফেরেননি।
তিশা বললেন, দেশের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। আমাদের মধ্যে কেউই তো কাজ শুরু করেনি। তার চেয়ে বড় কথা দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সবারই মন বিষণœ হয়েছিল। এখন হয়তো আস্তে আস্তে কাজ শুরু হবে। আমরাও কাজে ফিরব।
খুব শিগগিরই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো শিল্পী, অভিনয়ে ফিরতেই হবে। যেহেতু এটাই আমাদের কাজের জায়গা। ইতিমধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে মিটিং করেছি। কিছু কাজ নিয়ে কথা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত এখনই জানাতে চাই না।’
এর মধ্যে গত মঙ্গলবার বন্যার্তদের সাহায্যে ত্রাণ নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের দিঘলী গ্রামে। সশরীরে সেখানে হাজির হয়ে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান এই অভিনেত্রী। মুরগির রোস্ট এবং খিচুড়ি তাদেরকে রান্না করে সেই পুরো গ্রামের মানুষকে খাওয়ান।
তানজিন তিশা বললেন, ‘অনেক আগে থেকেই মানুষের জন্য কিছু করতে, তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এগুলো তো বলার বিষয় না, প্রকাশ্যে আসে না বলে হয়তো মানুষ জানে না। মানুষের পাশে থাকাটা জরুরি, দেখানোটা না। আমি এই গুণটা পেয়েছি বাবার কাছ থেকে। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে। মনে একটা প্রশান্তি পাই।’
তিনি আরও বললেন, ‘সেখানে গিয়ে নিজে না দেখলে হয়তো বুঝতাম না যে, তারা কতটা কষ্টে আছেন। বন্যার শুরুর দিক থেকেই বিভিন্নভাবে বন্যার্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। এরপর আমার পরিকল্পনা ছিল পুরো গ্রামবাসীকে রান্না করে খাবার দেওয়ার। কারণ শুরুর দিকে তাদের উদ্ধার এবং আশ্রয়টাই বেশি জরুরি ছিল। এখন তাদের খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বেশ জরুরি। সেজন্য বন্যার পানি একটু কমার পর সেখানে যাই। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং সামনেও করে যাব সবসময়।’
এদিকে চলতি বছরে ক্যারিয়ারের এক দশক পেরিয়ে তানজিন তিশা পা রাখলেন এগারোতে। নাচ দিয়েই শোবিজে পা রাখেন। এরপর মডেলিং দিয়ে পরিচিতি পান। তখনও অভিনয়ে নাম লেখাননি। এরপর রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘ইউটার্ন’ দিয়ে অভিনয় যাত্রা শুরু করেন। প্রথম নাটকেই দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে থাকেন। এরপর বছর কয়েক বিরতি দিয়ে নাটকে নিয়মিত হন এবং অভিনয়গুণে নিজেকে নিয়ে যান শীর্ষে, হয়ে ওঠেন তুমুল জনপ্রিয়। এই পুরো ক্যারিয়ারে তার আজকের এই অবস্থান গড়তে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। দেশ রূপান্তরকে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার শোবিজে আসাটা একদমই হুট করে। আমি নিজেও জানতাম না যে, এখানে কাজ করব। ছোটবেলা থেকে নাচ আমার ভীষণ পছন্দ ছিল আর এর মাধ্যমেই এখানে আসা। এরপর মডেলিং করা, অভিনয় করা। দেখতে দেখতে যে কীভাবে এতটা সময় কেটে গেল, বুঝতেই পারিনি।’ ‘আমি তো অনেক ছোট থেকেই কাজ শুরু করেছি, যখন অনেক কিছুই বুঝতাম না। বাবা চেয়েছিলেন আমি যেন ডাক্তার হই, কিন্তু হয়ে গেলাম অভিনেত্রী। আমি যখন এখানে কাজ করতে শুরু করি তখনও জানতাম না যে, এটাই কন্টিনিউ করব। অভিনয় খুব বেশি করা হতো না। একটা সময়ে এও শুনেছি, তানজিন তিশা অভিনয় পারে না। টিকে থাকার লড়াইয়ে পুরো এই জার্নিটা আমার জন্য সহজ ছিল না। সে অর্থে কারও সাপোর্ট পাইনি। তারপরও নিজের মতো করে কাজ করে গিয়েছি। আমি তো অভিনয় শিখে আসিনি। একটু একটু করে কাজ করতে করতে শিখেছি এবং নিজের একটা জায়গা তৈরি করেছি। একটা সময়ে দর্শকের ভালোবাসা পেতে শুরু করলে তখন সিদ্ধান্ত নিই যে, এই ভালোবাসাটুকুই ধরে রাখব। দর্শকদের জন্যই আজকে আমি এখানে।’ যোগ করেন এই তারকা।