মোরসালিনের গোলের পর হাঁসফাঁস

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার থিম্পুতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের খেলা মোটেই সহজ নয়। ঢাকার উচ্চতা যেখানে ৬০ মিটার, সেখানে থিম্পুতে একটু দৌড়ালেই হাফ ধরে যায়। শুরু হয় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। তার ওপর সিনথেটিক টার্ফে খেলেও অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। এর সঙ্গে দীর্ঘ তিন মাসের বিরতি যোগ করলে ভুটানের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ উতরে প্রীতি সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। পঞ্চম মিনিটে ভুটান গোলকিপার শেরিং ধেনদুপের ভুলে শেখ মোরসালিনের গোলেই নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফলাফল। রবিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি খেলবে দুই দল।

দীর্ঘ বিরতির পর শিষ্যদের শতভাগ ম্যাচ ফিট করে তোলার সময়টাই পাননি বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। চার দিন হাতে সময় নিয়ে থিম্পু গিয়ে বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে মানিয়ে নেওয়ার। পুরোপুরি যে পারেনি, তা তাদের খেলা দেখেই বোঝা গেছে। শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ার পর সেটা বাড়ানোর তাড়না খুব একটা দেখা যায়নি বাংলাদেশের খেলায়। বরং যখনই বল পায়ে এসেছে খেলার গতি ধীর করায় ঝোঁক ছিল তাদের। কাবরেরার কৌশলটাই ছিল রক্ষণ সামলে গোলের চেষ্টা করার। শিষ্যদের ফিটনেস এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা জেনেই তিনি নেন এই পন্থা। তাই তো তেড়েফুড়ে আক্রমণে উঠে ভুটানকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার পথে হাঁটেনি তার দল, যেটা গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেখা গিয়েছিল।

আবহাওয়া, প্রতিপক্ষের মাঠ-দর্শক ভাবনায় রেখে কাবরেরা চেয়েছেন যে করেই হোক ম্যাচটা জিততে। এটাই যে চলতি বছর তার দলের প্রথম জয়। সেইসঙ্গে থিম্পু দুঃস্মৃতি ভোলানোর একটা তাড়না ছিল আগে থেকেই। ২০১৬ সালে এ মাঠেই ভুটানের কাছে প্রথম ও একমাত্র হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আর সে রকম কিছু হতে দিতে চায়নি বাংলাদেশ। তাই পুরোটা সময় খেলেছে সতর্ক থেকে।

ভুটান অবশ্য চেষ্টা করেছে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে আরেকবার বাংলাদেশকে হারের লজ্জা দিতে। সেভাবেই শুরু করেছিল তারা। তবে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করতে হয় গোলকিপার ধেনদুপের ভুলে। ডানদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে গোলমুখে ক্রস ফেলেছিলেন রাকিব। ভুটান কিপার সেটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে সামনে থাকা মোরসালিনের পায়ে তুলে দেন। হালকা প্লেসিংয়ে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন এই ফরোয়ার্ড।

পিছিয়ে পড়লেও ফেরার চেষ্টা চালিয়ে গেছে ভুটান। তবে বাংলাদেশের রক্ষণের সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। বারবার বল হারিয়েছে অ্যাটাকিং থার্ডে এসে। বড় তারকা চেনচোকে ছাড়াই নেমেছিল ভুটান। শেষ দিকে বদলি নামলেও সেভাবে ভীতি ছড়াতে পারেননি ২০১৬ সালে বাংলাদেশকে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করা চেনচো। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বাংলাদেশ কিপার মিতুল মারমার দৃঢ়তায় গোল হজম করেনি। বাংলাদেশ নিজেদের অর্ধ থেকে এক সতীর্থের লম্বা বল বক্সে পেয়ে যান ভুটান অধিনায়ক নিমা ওয়াংদি। মিতুল ছিলেন একা। তবে নিমার ভলি এগিয়ে এসে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। পরের মিনিটে কর্নার থেকে ইয়েসে গেলশেনের হেড দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাকিবকে। সে সময় ঘটে আরেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। হঠাৎই মাঠে শুয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের রাইট উইঙ্গার। তাকে তুলতে মাঠে ছুটেছিলেন চার স্ট্রেচার বয়। রাকিবের কাছে পৌঁছেই একজন লুটিয়ে পড়েন মাঠে। জ্ঞান হারানো সেই স্টেচার বয়কে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবশ্য তার অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার জানা যায়নি।

যা হোক, রাকিবের জায়গায় বিরতি শেষে কাবরেরা মাঠে পাঠান শাহরিয়ার ইমনকে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ভুটান অবশ্য বল জালে জড়িয়েছিল। সতীর্থের ফ্রি-কিক থেকে ভুটানের এক ফরোয়ার্ড ব্যাকহিলে বল জালে জড়ান, তবে তার আগেই অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ম্যাচের ৬১ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে তুলে নিয়ে মাঠে পাঠানো হয় সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলে ফরোয়ার্ড রাব্বি হোসেন রাহুলকে। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ভুটানের ডিফেন্ডার কারমা ছেত্রিং গোল করতে দেননি শাহরিয়ার ইমনকে। বাঁ দিক থেকে মোরসালিনের আড়াআড়ি পাসে পা ছোঁয়ানোর আগেই কারমা কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন। আর যোগ করা সময়ে বক্সের ওপর থেকে রাহুলের ডানপায়ের বাঁকানো শট কোনো মতে রুখে দেন ভুটান কিপার।

এই ম্যাচের একাদশে জায়গা হয়নি বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। তার জায়গায় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তপু বর্মণ। জামাল অবশ্য শেষ দিকে নেমেছিলেন। তবে সেভাবে চেনাতে পারেননি নিজেকে।