বৃষ্টিতেই বিধ্বস্ত ৭ কোটি টাকার সড়ক

বরগুনার পাথরঘাটায় ভারী বর্ষণে ভেঙে গেছে চার কিলোমিটার সড়ক। ফলে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই উঠে গেছে সড়কের পিচঢালাই। ইট-সুরকি সরে গিয়ে ভেঙে গেছে দুপাশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে হরিনঘাটা ইকোপার্ক পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে পাঁচ মাস আগে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে ইট-সুরকি সরে গিয়ে রাস্তা ভেঙে গেছে।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্র দেওয়া হয়। এলজিইডির এই কাজটি করতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ নামে এক ঠিকাদার কাজটি পান। সেখান থেকে সাব-কন্ট্রাকের মাধ্যমে কাজের দায়িত্ব দেন বরগুনার দুই ঠিকাদার মো. শাহিন ও শহিদুল ইসলামকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার মজিবুর রহমান কালু বলেন, ‘আগেরবার নিম্নমানের খোয়া ও বালু দিয়ে এ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন অনেক জায়গা দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাস্তাটি নতুন করে হতে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন এই বুঝি কষ্টের দিন শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু তা হলো না। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে রাস্তার দুপাশ ক্ষয়ে যাচ্ছে।’

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ‘উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ কারণে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই রাস্তাটি ভেঙে গেছে। রাস্তা নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও কোনো লাভ হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে সাব-ঠিকাদারের প্রধান মোহাম্মদ শাহিনকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে সাব-ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, শিডিউল মেনেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পাথরঘাটা এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী সমীরণ ম-ল বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো কাজ বুঝিয়ে দেয়নি ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। তবে ঠিকাদার পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় রাস্তার দুপাশ ভেঙে গেছে।’ তিনি আরও জানান, হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত রাস্তার সব দায়ভার ঠিকাদারের। এ সময় রাস্তার কোনো ক্ষতি হলে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। ক্ষতিপূরণ পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।