মামলায় নাম না দিতে বিএনপির সাথে আ.লীগ নেতাদের গোপন বৈঠক!

মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত ২৭ আগস্ট করা গোপন ওই বৈঠকের ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকার রয়েল রূপালী হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকারসহ অন্যান্য নেতা ও আওয়ামী লীগের নেতারা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকে বাঁচতে ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ২৭ আগস্ট গভীর রাতে সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকারের সঙ্গে সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ, সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফি কামাল শফি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য, থানা যুবলীগের সভাপতি ও সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম ও আনোয়ার হোসেনের মধ্যে এ গোপন বৈঠক হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলেন, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই গোপন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ গোপন বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটু অসুস্থ’। তবে ওই বৈঠকে তাদের কী বিষয়ে কথা হয়েছে সেটা তিনি বলেননি।

সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শফি কামাল শফি বলেন, ‘বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমানের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের খাতিরে রামারচর এলাকার রয়েল রূপালী হোটেলে বসেছিলাম। তবে আমাদের মামলা সংক্রান্ত কোনো আলাপ হয়নি।’

জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান সরকার বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কোনো আঁতাত হয়নি বলে তিনি জানান।