চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এসএন কর্পোরেশন নামে একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের ৮ জনেরই অবস্থা আশঙকাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকার সমুদ্র উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
বিস্ফোরণে আহতরা হলেন জাহাঙ্গীর (৪৮), আহমাদুল্লাহ (৩৮), কাসেম (৩৯), সাগর (২০), আল আমিন (২৩), কারিমুল (২১), হাবিব (৩৬), বরকত (২৩), আনোয়ার (৫০), রফিকুল (৩০), রফিক (৩০), সাইফুল (৩০)।
স্থানীয়রা জানান, এস এন কর্পোরেশনে একটি পুরাতন জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজটি থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর আহত শ্রমিকদের চিৎকারে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এ সময় ইয়ার্ডের অন্য শ্রমিকদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করে।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মামুন বলেন, তেতুঁল তলা সাগর উপকূলে অবস্থিত এসএন করপোরেশন নামের একটি শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আমাদের দুটি ইউনিট দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৮ জনের শরীর ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংঙ্কাজনক।’
চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনায় দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বাকি চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন যাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে তারা হলেন বরকত উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন, জাহাঙ্গীর, হাবীব, কাসেম, খাইরুল ইসলাম ও আহমেদ উল্লাহ। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের ৭০ শতাংশ, আহমেদ উল্লাহর ৯০ শতাংশ, আল আমিনের ৮০ শতাংশ, বরকত উল্লাহর ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
এস এন কর্পোরেশনের ম্যানেজার (এডমিন) ওমর ফারুক বলেন, ‘একটি জাহাজ কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আজ জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ একটি পাম্পের বিস্ফোরণ ঘটলে ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনেই জাহাজ কাটার কাজ করি। কিন্তু এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাঙি্ক্ষত। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলা উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সীতাকুণ্ড থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. সোলায়মান ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ মামুন। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক এম রফিকুল ইসলাম বলেন, শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের মাঝে যেন কোন অসন্তোষ তৈরি না হয় সে বিষয়ে মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।