ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল, কামড়ের পর সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েই বিদায়

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণাটা দিয়ে রেখেছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শুক্রবার উরুগুয়ের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেললেন তিনি। গোলশূন্য ড্র ম্যাচে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগি হয়েছেন।

উরুগুয়ের হয়ে সুয়ারেজের ১৭ বছরের ক্যারিয়ার। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েই অবসরে গেছেন সুয়ারেজ। ১৪৩ ম্যাচে তার গোল ৬৯টি। সুয়ারেজকে বিদায় দিতে এসেছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ অস্কার তাবারেজ। বিদায়ী ম্যাচে মাঠে উপস্থিত ছিলেন সুয়ারেজের পরিবারের সদস্যরাও। অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায় তাদের। বিদায়ী অনুষ্ঠানে চমক ছিল বন্ধু লিওনেল মেসির আবেগপ্রবণ বার্তা। রেকর্ড করা ভিডিওতে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বন্ধু সুয়ারেজের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘শেষ দিন পর্যন্ত তুমি তোমার সবটা দিয়েছ। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য তুমি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিগ্যাসি’ রেখে যাবে। তোমার ক্যারিয়ারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে এখনো তোমার অনেক বছর ফুটবল খেলা বাকি। আর আমি খুবই খুশি যে আমরা একই দলে আছি, যা আমরা প্রতিদিন উপভোগ করি।’ সুয়ারেজ বর্তমানে খেলছেন ইন্টার মায়ামিতে। বন্ধু মেসিও আছেন একই ক্লাবে। উরুগুইয়ান এই ফরোয়ার্ড ক্যারিয়ারের শেষটা হয়তো সেখানেই করবেন।

সুয়ারেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নানাভাবে বর্ণনা করা যায়। ভালো-খারাপ দুটো বিশেষণই থাকবে তার নামের পাশে। ২০১৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়ে আর ইতালির মধ্যকার গ্রুপ ‘ডি’র ম্যাচে ৭৯ মিনিটে ইতালির ফুটবলার জর্জিও কিয়েল্লিনির কাঁধে হঠাৎ কামড় বসিয়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সুয়ারেজ এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারে তিনবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কামড়ের ঘটনা আছে। ২০১০ সালে আয়াক্সে খেলার সময় পিএসভির সঙ্গে একটা ম্যাচে সবার সামনেই বাক্কালের ঘাড়ে কামড়ে দেন সুয়ারেজ। এরপর লিভারপুলে থাকতে চেলসি ডিফেন্ডার ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচের বাহুতে কামড়ে দেন। তবে সুয়ারেজের সবশেষ কামড়ের ঘটনা ওই ২০১৪ বিশ্বকাপেই। তার আগে ২০১০ বিশ্বকাপে লাল কার্ড হজম করে সমর্থকদের কাছে নায়ক বনে গিয়েছিলেন সুয়ারেজ। তার সেই লাল কার্ডের দৃশ্য এখনো অনেকের চোখে ভাসে। কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ। ১-১ সমতায় খেলা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে নিজেদের গোললাইনে ঢুকতে থাকা বল ইচ্ছে করে হাতে লাগানোর অপরাধে সুয়ারেজকে লাল কার্ড দেখান রেফারি এবং ঘানার পক্ষে পেনাল্টি দেন। পেনাল্টি মিস করেছিলেন ঘানার জিয়ান। টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল উরুগুয়ে।

বিদায়ী বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুয়ারেজ বলেন, ‘উরুগুয়ে যেকোনো খেলোয়াড়, কোচ, পরিচালক কিংবা যে কারও চেয়ে বড়। আগামীকাল থেকে আমি শুধুই আরেকজন ভক্ত। যারা এরপর খেলতে আসবে, সবার জন্য শুভকামনা থাকবে। নিশ্চিতভাবে তারাও আমাদের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। উরুগুয়ে দীর্ঘজীবী হোক এবং আমি সব সময় উরুগুয়ের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।’