ভুটানের কাছে আবার হার

থিম্পুর চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়াম থেকে ফের হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে। রবিবার প্রীতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ডিফেন্ডারদের ভুলে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ভুটানের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো হারের পরিণতি বরণ করতে হয় বাংলাদেশকে। তাতে ক্লিনশিট থাকা এবং রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার কোনো লক্ষ্যই পূরণ হলো না হাভিয়ের কাবরেরার দলের। মুখোমুখি ১৬ ম্যাচে এটি ভুটানের দ্বিতীয় জয়।

পুরোটা ম্যাচ ভীষণ ম্যাড়মেড়ে ফুটবল খেলা বাংলাদেশের এই হারটা প্রাপ্যই ছিল। নিজেদের মাঠ, আবহাওয়া, দর্শক সমর্থন কাজে লাগিয়ে প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ভুটান আক্রমণের দিক থেকে ছিল এগিয়ে। প্রথম ম্যাচে শুরুর দিকেই ভুটান কিপারের একটি ভুলের সুযোগে শেখ মোরসালিন গোল করে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন। তবে ওরকম কোনো আক্রমণও রবিবার গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ভুটান আক্রমণে, পাসিং ফুটবলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণে গিয়ে বারবার খেই হারালেও দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আসল কাজটা করেন বদলি ফরোয়ার্ড কিঙ্গা ওয়াংচুক।

দুটি পরিবর্তন নিয়ে রবিবার খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে গোড়ালিতে ব্যথা পাওয়ায় আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র রাকিব হোসেন আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন। তার জায়গায় একাদশে সুযোগ হয় শাহরিয়ার ইমনের। আর আগের ম্যাচে সেন্টারব্যাক পজিশনে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষের জায়গা নেন লেফটব্যাক ইশা ফয়সাল। দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার না থাকাটা ভালোই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। সেন্টারব্যাক পজিশনে তপু বর্মণের সঙ্গে খেলা শাকিল হোসেন প্রায়ই ভুল করেছেন। সামনে রাকিবের শূন্যতা পূরণ করতে পারেননি ইমন। আর রাকিব না থাকায় শেখ মোরসালিন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকেও স্বাভাবিক রূপে দেখা যায়নি।

আগের ম্যাচের ক্লান্তির কারণেই বাংলাদেশ শুরু করেছিল সাবধান হয়ে। তবে ট্রানজিশনে দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারেননি মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকা দুই সোহেল রানা ও মোহাম্মদ হৃদয়। ফলে সামনের তিন ফরোয়ার্ড সেভাবে বলের জোগান পায়নি। পুরোটা সময়ই উদ্দেশ্যহীন মনে হয়েছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ার্ধে কাবরেরা অনেকগুলো পরিবর্তন করেও ভাগ্য ফেরাতে পারেননি ম্যাচের। শাহরিয়ার ইমনের জায়গায় অভিষেক হয় মিরাজুল ইসলামের। আর ফাহিমের জায়গায় নামেন রাহুল। তবে তারা সেভাবে চেনাতে পারেননি নিজেদের। এরও ১৫ মিনিট পর মোরসালিন ও ছোট সোহেল রানার জায়গায় আসেন জামাল ভুঁইয়া ও মুজিবুর রহমান জনি। এই পরিবর্তনেও খেলার ধারায় পরিবর্তন হয়নি। ম্যাচটা যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগুচ্ছিল, তখনই  বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা করে বসেন ভুল। শেরিং ধাওয়ার ফ্রি-কিক গোলমুখের জটলায় এলে তিনজন বাংলাদেশি সাদউদ্দিন, হৃদয় ও জনি নিরীহ বলটা ক্লিয়ার করতে পারেননি। তা চলে আসে জটলায়। সেখান থেকে ধেনদুপ পেমা হেড করে বাঁ দিকে বাড়ান। বদলি কিঙ্গা ওয়াংচুক ছিলেন আনমার্কড। সুযোগ পেয়ে ত্বরিত ডানপায়ের ভলিতে পরাস্ত করেন মিতুল মারমাকে। সুবাদে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

আর বাংলাদেশের সঙ্গী হয় আরেকটি থিম্পু দুঃস্মৃতি।