বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত ও আহতদের তথ্য চেয়ে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও কবরস্থান কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার সকল আলামত সংগ্রহ করা, এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দায়ের হওয়া অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকেসহ পলাতক সকল আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। মূলত তদন্তের সূচনালগ্নে প্রাথমিক যে বিষয়গুলো দরকার, সেগুলো আমরা সংগ্রহ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক তদন্তের যে যাত্রা সেটি আমরা শুরু করেছি।
তিনি বলেন, দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, সব সিভিল সার্জন, সব সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেখানে কী কী ঘটনা ঘটেছে। চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছি হাসপাতালে আহত–নিহত কতজন মানুষ গিয়েছিলেন, কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন, কতজন মারা গিয়েছেন, সে–সংক্রান্ত চিকিৎসার যত ডকুমেন্ট, সেগুলো তদন্ত সংস্থায় সরবরাহ করার জন্য। পুলিশ সুপারদের অনুরোধ করা হয়েছে যে তাদের এলাকার মধ্যে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে, কত মামলা হয়েছে, কারা কারা সম্ভাব্য আসামি ও কারা কারা ভুক্তভোগী, সেসবের তালিকা দিতে।
তদন্ত চলাকালে আসামিদের গ্রেপ্তারের আবেদন করার কথাও জানান তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করার জন্যই এই উদ্যোগ। যাতে করে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকে। ক্ষতিগ্রস্তরা এই গণহত্যার বিচারের জন্য মুখিয়ে আছেন। সাক্ষীরাও আগ্রহী। আলামত তাজা থাকতেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এতে কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে এই সরকারের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, সম্ভাবনাও নেই। সুতরাং এই সরকারের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ থাকতে পারে না, নেই বলেই আমরা জানি। বিচারকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশে হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হবে না—এটি আমরা আজকে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জাতির কাছে পরিষ্কার করতে চাই।