ইচ্ছা ছিল নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করবেন। সে স্বপ্নকে বাস্তব করতে ইতালি যাওয়াকে বেছে নিয়ে ছিলেন। কিন্তু কে জানতো স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের জীবনটাই হারাতে হবে। দেশে ফিরতে হবে লাশ হয়ে। এমনই এক নির্মমতার শিকার হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজ মুন্সী। রোববার লিবিয়াতে থেকে দেশে আসে রিয়াজের মরদেহ। সোমবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।
জানা যায়, জীবনের মান উন্নয়নের জন্য ইতালিতে যেতে চেয়েছিলেন রিয়াজ মুন্সী। এ ক্ষেত্রে বেছে নেন অবৈধ পথ। ইতালিতে যাওয়ার জন্য মানব পাচারকারী চক্রের দালাল শাকিল খাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ১৫ টাকা। দালাল তাকে সাগর পথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে নিয়ে যাবে। লিবিয়ার উদ্দেশে গত রমজান মাসে রওনা দেয় রিয়াজ। সেখানে রিয়াজকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দালালরা। দাবিকৃত ওই টাকা না দেওয়ায় মানব পাচারকারী চক্রটি নির্যাতন করে রিয়াজের হাত-পা ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে মারা যায় রিয়াজ।
রিয়াজের পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালদের দাবি করা টাকা না দেওয়ায় রিয়াজের হাত-পা ভেঙে দেয়। গত রোববার বিকেলে রিয়াজের নিথর দেহ দেশে পৌঁছায়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে পুলিশ মরদেহ রিয়াজের পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
রিয়াজের আত্মীয় মো. মারুফ কাজী বলেন, রিয়াজ কৃষিকাজ করতেন। পরে আয় বেশি না হওয়ায় ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারেননি। তারপর শাকিলের প্রলোভনায় ইতালিতে যেতে রাজি হয় রিয়াজ। ইতালিতে যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঋণ করে শাকিলকে দেয় রিয়াজ। পরে গত রমজানের প্রথম সপ্তাহে শাকিল লিবিয়ার থাকা আরেক দালাল নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের কারী আল আমিনের মাধ্যমে রিয়াজকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে রিয়াজের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে মারা যায় রিয়াজ।
১৫ দিন আগে রিয়াজের ভাই রাকিব মুন্সী বাদী হয়ে শাকিল খাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, 'রিয়াজের মরদেহ লিবিয়া থেকে আসার পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কিছু দিন আগে থানায় একটি মানবপাচার মামলা হয়েছিল। রিয়াজের হত্যার পর ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।'
তিনি জানান, 'মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'