আ.লীগ নেতাদের পিটিয়ে মারার নির্দেশনা যুবদল নেতার

আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখলেই প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারার নির্দেশনা দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌর যুবদলের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নিমতলা বাজারে যুবদলের একটি অফিস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ওই বক্তব্য দেন তিনি।

মিরপুর পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ওই দিন দেওয়া বক্তব্যে বলেন,  ‘যদি কখনো কোনো আওয়ামী লীগকে দেখেন, রাস্তায় পিটিয়ে মারবেন।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের রাস্তায় বের হতে দেয়নি। আমাদের বাজারে যেতে দেয়নি, এমনকি বাজার পর্যন্ত করতে দেয়নি। এতো জঘন্য তারা। ওরা যে রাজনীতি করে, সবচেয়ে জঘন্য রাজনীতি করে।

এক মিনিট দুই সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে ওই যুবদল নেতা বলছেন, বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের তিনজন একসঙ্গে বসতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ওপরে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেক কষ্ট করেছি। তাই আপনাদের অনুরোধ করব, দলের ভেতরে কোনো গ্রুপিং করবেন না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করবেন।

ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, ওইটা রাজনৈতিক বক্তব্য। ৫ আগস্টের পর আমরাই আওয়ামী নেতাদের বাড়িঘর পাহাড়া দিয়েছি। তার দাবি, কোনো অন্যায় না করেও শুধুমাত্র মিরপুর বিএনপির নেতা রহমত আলী রব্বানের ভাগনে হওয়ায় কারণে ১৬ বছর ধরে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই কষ্টের আবেগে কথাটা বলেছেন তিনি। এ জন্য তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এই যুবদল নেতা।

ভাগনের বক্তব্যের ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বান বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এটা আমাদের দলের আদর্শ না। আমরাও যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী আচরণ করি, সেটাতো জনগণ আশা করে না। এজন্য হাজারো মানুষ জীবন দিয়ে গণঅভ্যুত্থান করেননি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ সন্ত্রাস করা যাবে না। এই বক্তব্যের দায় দল নেবে না।

এ বিষয়ে মিপুরর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা হাবীবুল্লাহ বলেন, এটা আমার জানার বিষয় নয়। কোথায় কি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলো সেসব আমি কিছু জানি না, কিছু বলতেও পারবো না’।