দায়িত্ব নেওয়ার সময় হয়ে গেছে লিটনের

আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গেই থাকার কথা বাংলাদেশের। পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের পর সেটা হওয়ারই কথা। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টের পারফরম্যান্স নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন ক্রিকেটাররা। তবে দলের সিনিয়র ক্রিকেটার লিটন দাস ভারত সিরিজের আগে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। বরং ঐতিহাসিক সিরিজ জয়কে অতীত হিসেবে ভুলে গিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চান এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

গেল কয়েক বছরে যিনি হয়ে উঠেছেন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের নির্ভরতার প্রতীক, সেই লিটনের গত বছরের পারফরম্যান্স মোটেও স্বস্তির ছিল না। সেই দুঃসময়ে বারবার হোঁচট খেয়েছেন, তবে রাওয়ালপিন্ডিতে ফের উঠে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আবার আস্থা অর্জন করেছেন দলের। মঙ্গলবার মিরপুরে অনুশীলন শুরুর আগে তিনি দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। নিজের ব্যাটিং আর দলের ভারত সফর নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সিরিজের মতো এবার ভারত সিরিজ সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য। ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে এটা এরই মধ্যে অতীত হয়ে গেছে।’ পরে একই প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমেরও সাহায্য চাইলেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান, ‘সামনে তাকানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদেরও একটু সাহায্য করতে হবে। আপনারা যদি পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে বেশি কথা না বলেন, খুব ভালো হবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমার কাছে ওটা অতীত হয়ে গেছে।’

ভারত সিরিজকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন লিটন। যা পাকিস্তান সিরিজের চেয়েও কঠিন হতে পারে। কারণ চেন্নাই ও কানপুরে বদলে যাচ্ছে বল। কোকাবুরা বলে অভ্যস্ত বাংলাদেশকে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের সামলাতে হবে এসজি বলে, ‘আপনারা জানেন ভারত বড় একটা দল এবং আমাদের বলটাও পরিবর্তন হচ্ছে। এই বলে আমরা খুব কমই খেলি। চ্যালেঞ্জিং হবে, আমাদের খেলোয়াড়রাও খুব পরিশ্রম করছে। দেখা যাক কী হয়।’ এসজি বলের জন্য প্রস্তুতিটা কেমন হচ্ছে জানালেন, ‘আমরা যতটুকু পারছি আমাদের মূল বোলারদেরই ফেইস করছি। কিছুটা ডিফিকাল্টিস তো আছেই। কারণ, কোকাবুরা বলের নতুন বলটা খেলা কঠিন, পুরাতন বলটা খেলা সহজ। তবে এসজি বলে নতুন বলটা একটু সহজ, পুরাতন বলটা খেলা কঠিন।’

গত বছরটা তার ভালো কাটেনি। কেউ কেউ মজা করে বলতেন, ৭ ইনিংস পরপর হাসে লিটনের ব্যাট। ভারতে বিশ্বকাপে করেছেন হতাশ। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শেষ ম্যাচ ছাড়া বাকিগুলোতে ছিলেন ফ্লপ। তবে পাকিস্তানে প্রথম টেস্টে ৫৬ আর দ্বিতীয়টিতে করেন ম্যাচ জয়ী ১৩৮। এমন দারুণ সিরিজ কাটানোর পর তিনি জানালেন ব্যাটিংয়ে তার এখনই দায়িত্ব নেওয়ার সময় ইনিংসের, ‘স্বাভাবিক আমি অলমোস্ট নয়-দশ বছর ক্রিকেট খেলছি। সো ওইটুকু অভিজ্ঞতা তো হয়েছে দায়িত্ব নেওয়ার, তো এখন না আর কবে সুযোগ পেলে। আমি বলছি যে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। এই জিনিসটা এই না যে প্রতি ম্যাচের দায়িত্ব নিতে হবে আমাকে। আমি মানুষ আমার ভুল হতে পারে।’

টেস্ট ক্রিকেটে যেখানে ধরে খেলতে দেখা যায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের, সেখানে লিটন অনুসরণ করেছেন বাজবল কৌশল। অ্যাটাকিং ব্যাটিংয়ে তুলতে দেখা গেছে রান। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যে খুব অ্যাটাকিং খেলি, ব্যাপারটা তা না। আমার কাছে যেটা মনে হয় স্কোরিং জোনের বল, আমি ওইটাতে স্কোর করার চেষ্টা করি। আর অবশ্যই এখন যে কোনো ফরম্যাটে দেখবেন রান করাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিই। আমার কাছে মনে হয় আমি যে ধরনের ব্যাটিং করি বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট, পুরো ওয়ার্ল্ডেই সবাই অ্যাটাকিং মুডেই ক্রিকেটটা খেলে। টেস্টে অ্যাটাকিং ফিল্ডিং বেশি থাকে। আউট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশি থাকে, স্কোর করার সুযোগও বেশি থাকে। তো আমার মনে হয়, যদি আমার সঙ্গে ব্যাটিং থাকে। ধরুন মিরাজ, আমি যে জায়গায় ব্যাটিং করি বেশিরভাগ মিরাজকেই পাব। অথবা যদি ওপর থেকে কেউ থাকে মুশফিক ভাই বা সাকিব ভাই একজনকে পাব অথবা টপঅর্ডার থেকে একজনকে পাব। একটা ব্যাটার মিরাজ প্লাস বোলার, তো আমি যদি একটু শট না খেলি টিমের স্কোরবোর্ডও চলবে না আর আমার মনে হয় যে আমিও আটকে থাকব।’

পাকিস্তান সিরিজের দুটি ম্যাচেই দেখা গেছে প্রথম ইনিংসে ধস নেমেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে। তবে কয়েকটি উইকেট হারানোর পরই মিডল অর্ডারে হাল ধরেছে, হয়েছিল জুটি। দুই জুটিতেই ছিলেন লিটন। একটিতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে অন্যটিতে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি বলেন, ‘খুব ভালো একটা পয়েন্ট ধরেছেন। আমাদের প্লেয়ারদের এখানে ফোকাস করা উচিত। টেস্ট ক্রিকেটে সেশন যেহেতু জিততে হয়, প্রত্যেকটা সেশন গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ড্রেসিংরুমে সব সময় পজিটিভ নেগেটিভ দুই ধরনের কথা বার্তাই হয়। কীভাবে ক্যামব্যাক করতে পারি, কীভাবে খেলা চালাতে পারি। সব সময় পজিটিভ ওয়েতে কথাবার্তা হয়। একটা জিনিস সবচেয়ে ভালো যে, ওখানে একটা ইম্প্র“ভমেন্টের জায়গা আছে। চেষ্টা করব জিনিসটা ভালো করার।’

সেই সিরিজ খেলতে ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দল চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।