নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে কেন্দুয়া পৌরসভার কেন্দুয়া-মদন সড়কের পাশে বাদে আঠারবাড়ি হিলালীর বাড়ির সামনে থেকে সরকারি গাছ কাটা হয়।
পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও স্থানীয়দের চাপে কাটা গাছগুলো উপজেলা বন কর্মকর্তার জিম্মায় উপজেলা পরিষদ দপ্তরে রাখা হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন গাছ কাটার ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে বাঁধা দেন হিলালীর লোকজন।
মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন গেলে দেখা যায়, নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর বাসার সামনে রেইনট্রি গাছগুলো নেই। গাছগুলো কেটে গাছের গোঁড়ায় মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পরে কাটা গাছগুলো গিয়ে পাওয়া যায় কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে।
জেলা বনবিভাগ জানায়, ১৯৯১ সালে জেলা বনবিভাগের উদ্যোগে কেন্দুয়া পৌরসভার কেন্দুয়া-মদন সড়কে গাছ গুলো লাগানো হয়। গাছগুলো দাম নির্ণয় করে টেন্ডার দিয়ে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সড়কের গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদার গাছগুলো নিচ্ছেন না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে অন্য কাউকে এই গাছগুলো কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, টেন্ডার ছাড়াই প্রশাসনের উপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে হিলালী গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। সরকারি গাছ এভাবে কেটে নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে কাউকে না জানিয়ে তিনি গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ওই রাস্তার গাছগুলো কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে টেন্ডার হয়েছিল। সরকার পতনের কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমি চেষ্টা করছি বাড়ির সামনের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর কাটতে। আমার বড় ভাই আমিন হেলালীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন গাছগুলো কেটেছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করছে একটা পক্ষ।
এ বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা গোলাম মস্তুফা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের জানান, হিলালী সাহেবের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। তিনটি রেইনট্রি গাছের মধ্যে একটি মরা আর দুইটি আধমরা। রাস্তার পাশে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণও ছিল। তবে গাছগুলো কাটার বিষয়টা আমি জানতাম না। হেলালি সাহেবের ভাই গাছগুলো কেটে ফেলেন। এগুলো উদ্ধার করে উপজেলা বন কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।