বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শহিদ হয়েছেন অনেক ছাত্র-জনতা। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয় সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। এতে নিহতের পাশাপাশি দেশজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের অনেকেই এখন হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। কেউ মাথায়, কেউ হাতে-পায়ে ও চোখে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এমনি একজন রিফাত হোসেন। সাভারের আশুলিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুলির লাগার পর থেকেই সাভারের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় রিফাত শুরুর দিকে নিজের বাবা-মা নাম ও ঠিকানা দিতে ব্যর্থ হন। এদিকে গত ২০ দিনেও সন্তানের বেঁচে থাকার খবর না পেয়ে বাবা-মা ধরেই নেয় রিফাত মারা গেছে। তাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভ্যানে লাশ স্তুপ করে ছয় জনকে হত্যা করে পুলিশ। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বাবা-মা ধরে নেন এখানেই তার সন্তান ছিল। তাই সেখান থেকে পোড়া একটি লাশ নিয়ে বগুড়ার গাবতলীতে নিজের গ্রামের বাড়িতে পরম যন্তে দাফন করেন। কিন্তু লাশ দাফনের কিছুদিন পর জানতে পারেন তাদের সন্তান বেঁচে আছেন, হাসপাতালে ভর্তি।
রিফাতের মা পারুল বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিজের সন্তান ভেবেই আমরা ওই পোড়া লাশটি নিয়ে এসে কবর দেই। যাকে কবর দিছি ওইটাও এখন আমার বড় ছেলে। ওই ছেলের জন্য ধর্মীয় যা যা করা কর্তব্য আমরা তাই করবো। দুই ছেলেকে আমি সমান অধিকারে দেখবো।’
এদিকে রিফাতের মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে অনেক চিকিৎসক অপারেশন করতে ঝুঁকি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে রিফাতের বাবা লুৎফুর রহমান বলেন, ‘কয়েকটি হাসপাতালের ডাক্তাররা বলছে এই অপারেশন করলে টেবিলেই মারা যেতে পারে রিফাত।’
তবে ঝুঁকি মেনেও রিফাতের অপারেশন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল নিউরোসার্জারী বিশেষজ্ঞ রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, ‘রিফাতের মাথায় যে জায়গায় গুলি লাগে, অবস্থানগত কারণে তা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। রিফাত মোট ২৫ দিন আইসিইউতে ছিল। আমরা আশা করছি রিফাত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। অপারেশন পর থেকে রিফাত কথা বলতে পারছে।
তবে সন্তান ফিরে পেলেও মনে অজানা কষ্ট রয়েই গেল পারুল-লুৎফর দম্পত্তির মনে। তারা বলছেন, ‘ আমরা যে সন্তানকে কবর দিলাম, সে তাহলে কার সন্তান। হয়তো সেই বাবা-মা এখনও কষ্ট ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।