নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের মিছিল বের করা নিয়ে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিনসহ অন্তত ২০ জন। ওই সময়ে দুই গ্রুপের লোকজনদের হাতে রাম দা, ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোটা দেখা গেছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ফতুল্লার রেললাইন বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ে থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাল্টাপাল্টি একে অন্যদের দোষারোপ করেছেন। সংঘর্ষে লিপ্ত দুটি গ্রুপ এ দুই নেতার অনুসারী।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধের একই ব্যানারে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি একই সময়ে মিছিল বের করে। এর মধ্যে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির মিছিলে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। তিনি মূলত থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূঁইয়ার সমর্থক। অপরদিকে থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সমর্থিত ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির ব্যানারে মিছিলে ছিলেন ফতুল্লা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিনসহ আরও অনেকে।
দুই দলের মিছিল রেললাইন বটতলা এলাকাতে পৌছালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ফতুল্লার শিবু মার্কেট হতে পোস্ট অফিস সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ভাঙচুর করা হয় আশেপাশের বেশ কয়েকটি বসত বাড়ি ও একটি ডাইং কারখানা। হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, বিকেল ৩টার দিকে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকা থেকে মাদক, সন্ত্রাস দূর করতে একটি শান্তি মিছিল নিয়ে বের হয়। এ সময় শামীম ওসমানের লোক আলাউদ্দিন হাজীর ছেলেরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা, গুলিবর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। কী কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর এমন বর্বর হামলা করলো তা আমার জানা নেই। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূইঁয়া বলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ, যুবলীগ নেতা মীর সোহেলের লোকজন এই হামলা করেন। রিয়াদ একজন বিপদগামী বিএনপি নেতা। তার নেতৃত্বেই শটগান দিয়ে এই হামলা করা হয়।
ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান, তাদের মিছিলে হঠাৎ করেই রিয়াদ চৌধুরীর লোকজন হামলা করে। এতে তাদের অনেকে আহত হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি পেয়ে দুই পক্ষই পালিয়ে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় থানা এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।