স্ত্রী-সন্তানসহ বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

দুর্নীতির মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বাচ্চু ছাড়াও আসামিরা হলেন তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, ছেলে শেখ রাফা হাই ও শেখ ছাবিদ হাই অনিক, ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্না।

দুদকের আইন কর্মকর্তা মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, গতকাল মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পলাতক ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। জামিনে থাকা অন্য আসামি হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিক ও ক্যাপিটাল বনানী ওয়ান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুরুল হুদা বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

তদন্ত শেষে ৫ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল হাসান গাজী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বাগেরহাট-১ আসন থেকে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। এক/এগারোর পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান তিনি। সেই মেয়াদের শেষ দিকে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট বাজার এলাকায় ৩০ দশমিক ২৫ কাঠা জমি কেনার জন্য তিনি বেস্ট হোল্ডিংস গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিন আহমেদের সঙ্গে চুক্তিপত্র করেন। চুক্তি অনুযায়ী জমির মূল্য ধরা হয় ১১০ কোটি টাকা। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর দুটি দলিল করা হয়। এর মধ্যে ৮০৮৮৫ নম্বর দলিলে ১৮ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি হয়, যার দাম ধরা হয় ৯ কোটি টাকা। এই দলিলের গ্রহীতারা হলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তার ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্না ও স্ত্রী শিরিন আক্তার। অন্যদিকে ৮০৮৮৬ নম্বর দলিলে ১২ দশমিক ২৫ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করা হয়, যার দাম ধরা হয় ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এই দলিলের গ্রহীতা আবদুল হাই বাচ্চুর দুই ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও শেখ রাফা হাই। বাচ্চু ১৩৪টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং নগদে ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমির দাম পরিশোধ করেন, যা আসামি আমিন আহমেদ বুঝে পেয়েছেন মর্মে স্বীকার করেন। জমি কেনার চুক্তি অনুযায়ী দাম পরিশোধ করলেও রেজিস্ট্রেশন দাম দেখানো হয় অনেক কম।

দুদকের অভিযোগ, আসামি বাচ্চু তার স্ত্রী, ভাই ও সন্তানদের নামে ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর, ছদ্মাবরণের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জন করা অর্থ গোপন করেছেন। অন্যদিকে জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে দাম কম দেখিয়ে সরকারের ৮ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। বাচ্চুর অবৈধ অর্থ বৈধ করার ক্ষেত্রে আমিন আহমেদ সরাসরি সহায়তা করেছেন।