বগুড়ার শেরপুরের মজুমদার রাইস ব্র্যান অয়েল মিলে তেলের লাইন মেরামতের সময় রিজার্ভ ট্যাংক বিস্ফোরণে ৪ শ্রমিক নিহতের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জিহাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলীকে (এলজিইডি) আহ্বায়ক, শেরপুর থানার (তদন্ত) কর্মকর্তাকে সদস্য, শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শককে সদস্য, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বগুড়ার পরিদর্শককে সদস্য ও শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সদস্য-সচিব করে ৫ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির সদস্যগণকে ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জিহাদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা কারখানাটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে আমদের যেটা মনে হয়েছে এটি তদন্ত হওয়াটা খুবই জরুরি। কারণ কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল? সেখানে যারা কাজ করছিলেন তারা ছিলেন লেবার শ্রেণির। সেখানে গিয়ে আমরা কোনো টেকনিশিয়ান, ইঞ্জিনিয়ার বা এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন কাউকে পাইনি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানে আরো এ ধরণের ১২টি ট্যাংকার রয়েছে। এবং এখানে অনেক শ্রমিক কাজ করে। সেক্ষেত্রে তাদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। এ জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আশা করি এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারব।’
ঊল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় অবস্থিত মজুমদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড কারখানায় ৭ জন শ্রমিক রাইচ ব্যান্ড তেল উৎপাদনের কনটেইনার মেরামতের কাজ করছিলেন। এসময় কনটেইনারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন মো. ইমরান (৩২), মোহাম্মদ সাঈদ (৩৮), রুবেল (৩১), মো. মনির (২৮)। এরা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর অফিসার্স কলোনির বাসিন্দা।