শিশুর যে আচরণগুলোকে কখনো প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় 

শিশুদের দুষ্টুমি করা স্বাভাবিক বিষয় কিন্তু আক্রমণাত্মক আচরন করলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ছোট থেকে শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ এড়িয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে তা অপরাধ মনস্কতার জন্ম দিতে পারে। একটা সময় শিশু নেশা করাও শুরু করতে পারে। জড়িয়ে পড়তে পারে অপরাধমূলক কাজে। এই ধরনের ব্যবহারের বদলকে বলা হয় কনডাক্ট ডিজ অর্ডার। শিশুর মধ্যে এমন আচরণ দেখলে মা-বাবাদের এড়িয়ে গেলে চলবে না। 

পশুপাখিকে আঘাত করে আনন্দ

বাসার ও বাইরের পোষা প্রাণীর প্রতি আপনার সন্তান কেমন আচরণ করছে তা খেয়াল করুন। যদি দেখেন, শিশু পশুপাখিকে আঘাত করে এবং বোবা প্রাণীকে আঘাত করে আনন্দ পায়, তাহলে বুঝতে হবে এই আচরণ স্বাভাবিক নয়।

ভাঙচুর, মারপিট

অনেক শিশুই রেগে গেলে জিনিসপত্র ছোড়ে, ভাঙচুর করে, আচমকা কাউকে আঘাত করে, কামড়ে দেয়, মারধর করে। এমন আচরণ যদি শিশু বার বার করতে থাকে, তা হলে মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। কেননা শিশুর মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ স্বাভাবিক নয়। যদি কথায় কথায় বড়দের গায়ে হাত তোলে, সম বয়সীদের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে, স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ও বাড়িতে বড়দের অসম্মান করে, তা হলে তখন থেকেই শিশুকে শাসন করতে হবে। মনোরোগ চিকিৎসকরা মনে করেন কনডাক্ট ডিজ়অর্ডারের কারণে এমন আক্রমণাত্মক আচরণ হতে পারে। তাই সময় থাকতেই মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অহেতুক মিথ্যা বলা 

শিশুরা অনেক সময় বাবা-মায়ের শাসন থেকে বাঁচতে মিথ্যা কথা বলে। কখনো মনোযোগ আকর্ষণ করতে মিথ্যা বলে। শিশুরা ছোট খাটো মিথ্যা বললে বাবা মায়েরা তা পাত্তা দেন না। কিন্তু প্রতিনিয়ত সন্তান মিথ্যা কথা বললে পরবর্তীতে তা অভ্যাস হয়ে যাবে। 

কোন জিনিস লুকিয়ে নিয়ে আসা

অনেক সময় না বুঝেই শিশুরা চুরি করে। পাশের সিটে বসা বন্ধুর পেনসিল, স্কেল কিংবা অন্য কোনোকিছু ব্যাগে করে বাসায় আনছে কিনা তা খেয়াল রাখা উচিত। বন্ধুদের জিনিস লুকিয়ে নিয়ে আসা, বাড়ি ফিরে মিথ্যা বলার প্রবণতা পরবর্তী সময়ে সমস্যার কারণ হতে পারে।