ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন: ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

থানা হেফাজতে ছাত্রদল নেতাকে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ঘটনার একযুগ পর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তৎকালীন কমিশনার শফিকুর রহমানসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্যাতিত সাবেক ছাত্রদল নেতা এস এম মাহমুদুল হক টিটো বাদী হয়ে খুলনা মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে, খুলনা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলেন কেএমপির তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ), সদর থানার তৎকালীন সহকারী পরিদর্শক (এস আই) শাহ আলম, এস আই মো. জুলহাজ্ব উদ্দিন, হেড কনস্টেবল কাশেম, কনস্টেবল জাহিদ, কনস্টেবল তারক, কনস্টেবল ইসরাফিলসহ অজ্ঞাত আরো অনেকে।

মামলার বাদী  এস এম মাহমুদুল হক টিটো নগরীর টুটপাড়া মেইন রোডের এস এম এমদাদুল হকের ছেলে ও খুলনা মহানগর ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, বাদী মাহমুদুল হক টিটো খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নিতেন। মামলার ৮ নম্বর আসামি তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান,  উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি—দক্ষিণ) ও  খুলনা সদর থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান নির্দেশে উক্ত আসামিরাসহ আরো ৮/১০ জন পুলিশ সদস্য ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি ও সরকারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারমুখি হয়ে বাদী মাহমুদুল হক টিটোর বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তার টি—শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে বাড়ির বাইরে নিয়ে এসে পুলিশের ব্যবহৃত গাড়িতে ওঠায়। এরপর মামলার ২ নম্বর সাক্ষী ফেরদৌস রহমান মুন্নাকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে আসে। মুন্নার হাতে হ্যান্ডকাপ ও গামছা দিয়ে চোখ বাঁধে।

পরে থানায় এনে বাদী মাহমুদুল হক টিটোকে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় থানার ভেতর ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে কিছু সময়ের জন্য মারপিট বন্ধ রাখে। এ সময় ১ নম্বর আসামি ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলে ‘ শালার জ্ঞান ফেরা, আমাদের আরো কাজ বাকি আছে’। এ সময় এস আই মো. জেলহাজ্ব উদ্দিন চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরান। এরপর তাকে থানার একটি রুমের ভেতর নিয়ে গেলেও বসতে দেয়নি। শারীরিক দুর্বলতার কারণে পড়ে যেতে গেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাদে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এ সময় ওসি কামরুজ্জামান জিজ্ঞেস করে ‘ তোর সঙ্গে আর কে কে আছে বল’। তখন সে কিছু জানে না বললে ওসি কামরুজ্জামান মামলার বাদী টিটোর পেটে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দিয়ে বলেন, ‘শালাকে ক্রসফায়ারের জন্য গাড়িতে ওঠা, সব জানাতে পারবে। এ অবস্থায় টিটো মেঝেতে পড়ে গিয়ে গোঙ্গাইতে থাকলে এস আই শাহ আলম, এস আই মো. জেলহাজ্ব উদ্দিন, হেড কনস্টেবল কাশেম, কনস্টেবল জাহিদ, কনস্টেবল তারক, কনস্টেবল ইসরাফিল তাকে আবারো বেদম প্রহার করে। এতে তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে টিটোকে ১ নম্বর ও মুন্নাকে ২ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাত আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে  মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়। বাদী টিটো দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় জেলে থাকার পরও তাদের রোষানল থেকে মুক্তি পাননি। পরবর্তীতে তাকে আরো বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ করতে হয়। ওই নির্যাতনে তিনি মেরুদন্ডে সমস্যা ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে একাধিকবার থানা ও পুলিশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি।