কৃষি ও মৎস্যজীবীদের পাশে শিক্ষার্থীরা

বন্যায় কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতেও ক্ষতি হয়েছে। আর এই ক্ষতিগ্রস্ততা কাটাতে সহযোগী হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে ধানের চারা, সবজির বীজ ও মাছের পোনা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন। লিখেছেন মো. মনিরুজ্জামান

ধানের চারা উৎপাদন

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সহায়তায় বীজ সংগ্রহ করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। পূর্বতন বাণিজ্যমেলার মাঠেও বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অ্যালামনাইদের অর্থ জোগানে এগিয়ে এসেছেন। শিক্ষকরা এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মাছের পোনা উৎপাদন

বন্যাপরবর্তী মৎস্য খাত নিয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রেও উদ্যোগী হয়েছেন। মৎস্যবিজ্ঞান, একুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে মাছের পোনা উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ আলম বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মাটি কিছুটা শক্ত হলে মাছের পোনা বিতরণের কাজ শুরু করব। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। মাছের পোনার ক্ষেত্রে তেলাপিয়া ও কার্পজাতীয় অন্যান্য মাছের পোনা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

সবজির চারা বিতরণ

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বন্যায় এবার শাকসবজি, আদা, হলুদ, মরিচ, পেঁপে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও টমেটো, পান, আখসহ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উদ্যোগী হয়েছেন। ১০ লাখ সবজির চারার পাশাপাশি ৫ একর জমিতে ধানের চারা উৎপাদন করে বন্যার্ত কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করবেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর পাঁচ একর জমিতে ধানের চারা ও সিডলিং ট্রেতে ১০ লাখ সবজি চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে জমি প্রস্তুতি থেকে চারা উৎপাদনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। শুরুতে কেবল কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীও যুক্ত হচ্ছেন। উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হাসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। যেহেতু কৃষি অনুষদের বাইরের শিক্ষার্থীরাও এখানে কাজ করছে, ফলে কিছু চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে কারিগরি বিষয়েও আমরা সাহায্য করছি। শিক্ষার্থীরা খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব কাজে অংশ নিচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী এমএ ইমরান খান ফেসবুক পোস্টে কৃষকদের জন্য কিছু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার পোস্টেই কমেন্ট করতে শুরু করেন অনেকে।

প্রাথমিক কিছু সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রচারণা শুরু করেন তারা। পাওয়া যায় ব্যাপক সাড়া।

কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কৃষি বাজার’ দুই লাখ সবজির চারা বিনামূল্যে উৎপাদন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ বেড়ে যায়। ক্যাম্পাসের নেট হাউস ও স্থানীয় নার্সারিতে আরও আট লাখ সবজির চারা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের কাজে প্রচারণা শুরু করেন তারা। পরে পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক আবেদ চৌধুরীর ‘ফারমারস গ্রিন রেভল্যুশন’ এবং কৃষি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেসের হাবিপ্রবি শাখার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১২৮০ কেজি ইনব্রিড ধান বীজের সহায়তাও পেয়ে যান। বীজ উৎপাদন হলে পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিতরণের কাজ শুরু করবেন। চারা উৎপাদন ও বিতরণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এর উদ্যোক্তা এমএ ইমরান খান বলেন, ‘বন্যা প্লাবিত এলাকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ‘স্বল্প জীবনকালের আমন ধানের চারা’ বিতরণ করব। সরেজমিন তদারকি করেই

কৃষক তালিকা প্রস্তুত করা হবে। স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় কৃষানিদের সবজি চারা বিতরণ করা হবে, যেন তারা বসতবাড়ির আঙিনায় উৎপাদন করতে পারেন।’